আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ২২ জানুয়ারি: করোনা সংক্রমণ বাড়তেই রাজ্যে শুরু হয়েছে বিধিনিষেধ। আর তার জেরেই নির্বাচনের প্রচারেও এবার ধাক্কা লেগেছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মিটিং, মিছিল সহ রোড শো। আর তাই এবার রাজনৈতিক দলগুলির বড় ভরসা হল ফ্লেক্স, ব্যনার ও হোর্ডিং। শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এই একই চিত্র। গোটা এলাকাজুড়ে এখন ফ্লেক্স, ব্যনার, হোর্ডিংয়ের ছড়াছড়ি।
শিলিগুড়ি পুরনিগমের এবছরের নির্বাচন স্মরণীয় হয়ে থাকবে সকলের মনে। কারণ এবছর নির্বাচন হচ্ছে তাও শহর নিরুত্তাপ। কোনও কোলাহল নেই, কোনও চিৎকার নেই। পথসভাও নেই কোথাও কারণ করোনার হানায় এবার সব বন্ধ। আর তাই প্রচারের মূল হাতিয়ার দেওয়াল, ফ্লেক্স, ব্যনার সহ হোর্ডিং। শহরের ৪৭টি ওয়ার্ডেই প্রতিটি প্রার্থীর এখন এটাই বড় ভরসা। আর গোটা শহর যেন মুড়ে গিয়েছে বিভিন্ন প্রার্থীর মুখ দিয়ে। বাসিন্দারাও এটাই মেনে নিয়েছে এবছর। কোনও কোনও ওয়ার্ডে আবার প্রার্থীদের কাটআউট তৈরি করা হয়েছে। ব্যাপক ব্যস্ততা প্রিন্টিং প্রেস গুলিতে। কারণ তাদের প্রতিটি প্রার্থীর ফ্লেক্স, ব্যনার, হোর্ডিং বানাতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায় বলেন, করোনার জন্য এবছর মিছিল, রোড শো নেই তাই এবার ফ্লেক্সই ভরসা। এছাড়া দেওয়া লিখন তো রয়েছেই। তবে এখন অনেকেই দেওয়ালে লিখতে মানা করেন। কিন্তু ফ্লেক্স, ব্যনার ওয়ার্ডের যত্রতত্র লাগানো যাচ্ছে৷ তাই এভাবেই প্রচার চলছে আমাদের।
অন্যদিকে একই কথা বাম প্রার্থী মৌসুমী হাজরার। তিনিও বলেন, ফ্লেক্স ছাড়া আর আমাদের কাছে অন্য উপায় নেই। তাই আমরা ব্যনার, ফ্লেক্সের মাধ্যমেই প্রচার চালাচ্ছি। বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছি কিন্তু মিছিল না হওয়ার জন্য ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় ফ্লেক্স লাগানো হচ্ছে। নির্বাচনে মিটিং, মিছিল দেখা শহর এবছর এক নতুন ধরনের প্রচার দেখছে। সেটা বেশ নতুনত্ব বলে তাদের মন্তব্য। এক বাসিন্দা কৌশিক কর্মকার বলেন, দারুণ অভিজ্ঞতা এই নির্বাচনে। কেমন যেন শান্ত পরিবেশে নির্বাচন হচ্ছে। আর পাড়ায় ফ্লেক্স, ব্যানার তো ছেয়ে গিয়েছে। এটাই ভালো সারাবছর যারা কাজ করে তাদের অত প্রচার না করলেও চলে।

