জে মাহাতো, দিঘা, ১৫ জুলাই:
করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট সঙ্গে নিয়ে দিঘায় বেড়াতে যাওয়ার দুশ্চিন্তামুক্ত হলেন পর্যটকরাl করোনা রিপোর্ট ছাড়া নেগেটিভ রিপোর্ট ছাড়া কেউ হোটেলে জায়গা পাবেন না, এই ঘোষণার পর বহু পর্যটক দিঘা এসেও ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে কিন্তু এবার সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এল। জেলা প্রশাসন। পর্যটন ব্যবসা যাতে মার না খায় সেই জন্য দিঘাতেই করোনা পরীক্ষা কেন্দ্র চালু করল জেলা প্রশাসন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট সঙ্গে রাখার সরকারি ঘোষণার পর দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন পর্যটকরা। যেসব পর্যটক অসুস্থ হননি তারা কোথায় করোনা পরীক্ষা করাবেন এবং করোনা রিপোর্ট কোথায় পাবেন তা নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। করোনা রিপোর্ট সমস্যায় মাথায় হাত পড়েছিল হোটেল মালিকদের। লকডাউন খরা কাটিয়ে সবে তাঁরা ব্যবসা জমাতে শুরু করেছিলেন। ঠিক এই সময় সোমবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় হোটেলে পর্যটকদের জায়গা দিতে হলে অন্যান্য নথির সঙ্গে তাদের করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট অথবা পূর্ণাঙ্গ ভ্যাক্সিনেশন রিপোর্ট জমা করতে হবে।
এই নির্দেশিকা জারির পর পর্যটক ও পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্তদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে। সেই সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসন দিঘাতেই পর্যটকদের জন্য কোভিড পরীক্ষার ব্যবস্থা করছে। বুধবার থেকেই সমুদ্রে বেড়াতে যাওয়া সমস্ত পর্যটক করোনা পরীক্ষা করিয়ে দিঘার হোটেলে প্রবেশ করতে পারবেন।
দিঘার দু’টি জায়গায় করোনা পরীক্ষা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ফলে করোনাকালে দিঘা যাওয়ার ভোগান্তি আর রইল না। জানা গিয়েছে, বুধবার থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পর্যটকদের পরীক্ষা করা হবে দিঘা-শংকরপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অফিস এবং একঘর-কামিনি ব্লক হেল্থ সেন্টার। কোভিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করানোর সঙ্গে সঙ্গেই মিলবে রিপোর্ট। নেগেটিভ এলেই সোজাসোজি হোটেলে উঠতে পারবেন পর্যটকরা।
প্রশাসনের করোনা শংসাপত্র সংক্রান্ত ঘোষনার পর সোমবার থেকে সৈকত প্রায় পর্যটকহীন। নদিয়ার রানাঘাট থেকে ৮ জনের একটি দল এসেছিল দিঘায়। দলের অন্যতম সদস্য সুব্রত বাঙাল বলেন, ‘‘পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের প্রতিষেধকের দ্বিতীয় ডোজ় হয়ে গিয়েছে। তবে অনেকেরই শুধু প্রথম ডোজ় হয়েছে। মোবাইলে সেই তথ্য দেখিয়ে ঘর চেয়েছিলাম। কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ রাজি হননি।’’ ওল্ড দিঘার একটি হোটেলের ম্যানেজার অনিমেষ সামন্ত বলেন, ‘‘এ দিন সকাল থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের কারও কাছেই করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট কিংবা দ্বিতীয় ডোজ়ের শংসাপত্র ছিল না। সকলকেই ফিরিয়ে দিতে হয়েছে।’’
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতেই এবার পূর্ব মেদিনীপুরের প্রধান চার পর্যটনকেন্দ্র- দিঘা, মন্দারমনি, তাজপুর এবং শংকরপুরে পর্যটকদের রাত্রিবাস করতে হলে সঙ্গে রাখতে হবে কোভিড নেগেটিভ রিপোর্ট অথবা ভ্যাক্সিনেশন সার্টিফিকেট এমন ঘোষণা করা হয়েছিল। দিঘাতেই করোনা পরীক্ষার এই উদ্যোগে ফের পর্যটকদের জন্য মুক্ত হয়ে যাবে দিঘা। প্রশাসনের এই উদ্যোগে এবার পর্যটকদের ভিড় বাড়বে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে বেপরোয়া ভিড়ে করোনাবিধি লঙ্ঘন হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে।

