আমাদের ভারত, ১৪ মার্চ: ক্রমেই চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে দেশের করোনা পরিস্থিতি। যে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজারের নিচে চলে গিয়েছিল সেটাই এখন ২৫ হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। কেন্দ্র বলছে গত তিন মাসে রেকর্ড সংক্রমণ ধরা পড়েছে দেশে। নতুন আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও ব্যাপক হারে বাড়ছে। দিনে গড়ে প্রায় ৪ হাজারের বেশি করোনা সক্রিয় রোগী ধরা পড়ছে। ফলে উদ্বেগ বেড়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের।
বলা যায় মহারাষ্ট্র দাঁড়িয়ে আছে একেবারে বিপদের মুখে। একদিনে সংক্রমণ ১৫ হাজারের বেশি। এখনও পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের কোভিড রোগীর সংখ্যা ২২ লাখ পেরিয়েছে। মহারাষ্ট্রে এখন সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১লক্ষেরও বেশি। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক জেলায় লকডাউন জারি করা হয়েছে। নাগপুরে ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। তবে রিপোর্ট বলছে এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি ধারাভী যেখানে কম করে দশ লক্ষ মানুষের বাস সেই জায়গাটি করোনার প্রভাব থেকে এখনো অনেকটাই সুরক্ষিত। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্চ মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত কনটেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা মুম্বাইতে ব্যাপক হারে বেড়েছে। সিল করে দেওয়া হয়েছে ২০০-র বেশি বহুতল। আগামী দিনে নাগপুরের মতো রাজ্যের আরো কয়েকটি অংশেই লকডাউন হতে পারে বলে আগাম জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে পাঞ্জাব,কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত, কেরল, হরিয়ানাতেও। দেশের ৮৫ শতাংশ করোনা আক্রান্ত এই কটি রাজ্যের বাসিন্দা।
গত ২৪ ঘন্টায় দেশে ২৫,৩২০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, যা আগের দিনের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এখনো পর্যন্ত দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ১৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ৪৮ জন। আপাতত মোট মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬০জন। গত ২৪ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছে ১৬১ জনের। আগের দিনের থেকেই সংখ্যাটি ১৫ শতাংশ বেশি। ২৪ ঘন্টায় করোনা মুক্ত হয়েছেন মাত্র ১৬ হাজার ৬৩৫ জন, যা দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যার থেকে প্রায় ৯ হাজার কম।

