নয়া প্রজাতির করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসার পরিস্থিতি ভারতে, সতর্ক না হলে দিতে হবে খেসারত

আমাদের ভারত, ২৬ ফেব্রুয়ারি:ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে দেশের করোনার গ্রাফ। স্বাস্থ্য মহলে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে তাহলে কি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসছে? দিন কয়েক আগেও কমেছিল সংক্রমণ, কমেছিল মৃত্যুর মিছিল। বড় সংখ্যক আক্রান্ত সুস্থ হয়ে উঠেছিল। ভাইরাসের সক্রিয়তা কমেছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। মানুষ ভাবছিল করোনা যুদ্ধ হয়তো এবার শেষের দিকে এগোচ্ছে।টিকাকরণের কর্মসূচিও শুরু হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেই মিউটেশন করে নয়া প্রজাতির করোনা আবার ফিরে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভারতে করোনার নতুন প্রজাতির সক্রিয় হতে শুরু করেছে। মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, কেরল, কর্ণাটক, ছত্তিশগড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে। আর এটাকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

তাই আবারও করোনা নিয়ে নতুন করে সতর্কতার প্রচার শুরু হয়েছে চারিদিকে। করোনা পরীক্ষার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে রাজ্যগুলিতে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরে তরফে জানানো হয়েছে মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, কেরল, কর্ণাটক, ছত্তিশগড়ের কোনো বাসিন্দা কলকাতা বিমানবন্দরের নামলেই করোনা পরীক্ষা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন করোনা সংক্রমণে প্রথম দফায় লকডাউনের কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সহজ হয়েছিল। একই সঙ্গে মানুষের মনে একটি আশঙ্কা থাকায় সামাজিক সর্তকতাও বেশি ছিল। কিন্তু এখন মানুষের মধ্যে গাছাড়া ভাব দেখা যাচ্ছে। ফলে অন্য রাজ্যগুলি থেকে শিক্ষা না নিলে খেসারত দিতে হবে এই রাজ্যের মানুষকেও। মানুষ সচেতন না হলে লকডাউন পর্বের মতই ভয়ংকর পরিস্থিতিতে ফিরতে হবে এরাজ্যের মানুষকেও। তার মধ্যেই আবার ভোটের দামামা বেজে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলি প্রচারে ব্যস্ত। বিভিন্ন জায়গায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম হচ্ছে। সতর্কতাকে শিকেয় তুলে হচ্ছে জনসভা।
অন্যদিকে করোনার পরীক্ষাও কমেছে অনেকটাই। গত মাসে ৪০ হাজারেরও বেশি দৈনিক পরীক্ষা হচ্ছিল। সেই সংখ্যা এখন কুড়ি হাজারের নিচে নেমেছে। এখনো পর্যন্ত বাংলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লক্ষ ৭৪ হাজার। ৫ লক্ষের বেশি মানুষ সুস্থ হয়েছে। করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের। কিন্তু সংক্রমণের হার যদি বাড়তে থাকে আগামী কয়েক মাসের ভয়াবহ পরিস্থিতি আবারো তৈরি হতে পারে। ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞতা বলছে মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ অনেক বেশি মারাত্মক ও প্রাণঘাতী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *