আমাদের ভারত, ২৫ মে: গত কয়েক দিনে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ভারতে ব্যপক হারে বেড়ে চলেছে। শেষ চার দিনে ২৬ হাজারেরও বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ভারতে। আর লাফিয়ে লাফিয়ে এই সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের প্রথম দশে করোনা আক্রান্তের তালিকা ঢুকে পড়েছে ভারত। কিন্তু আগামী কিছুদিনের মধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী জুন মাসে ভারতে করোনা সংক্রমনের সবচেয়ে খারাপ সময় আসতে চলেছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন অনুযায়ী গত চার দিনে রেকর্ড হারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ভারতে। শুক্রবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬০৮৮। শনিবারই তা হয়ে যায় ৬৬৫৪।আবার রবিবার আরো বেড়ে হয় ৬৭৬৭। সোমবার সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৯৭৭। আর এর ফলে ভারতে এখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ৮৪৫।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত আগামী কয়েকদিনে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ লক ডাউনে শিথিলতা। গত দুমাস কড়া লক ডাউন ছিল দেশে। কিন্তু এখন সেই লক ডাউনে বেশ কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে বেশকিছু পরিষেবাও শুরু হয়েছে। ফলে তারই প্রভাব পড়তে পারে এবং বাড়তে পারে আক্রান্তের সংখ্যা বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ইরানে, এপ্রিল মাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন হাজারেরও কম ছিল। কিন্তু যখন মে মাসে লকডাউন তোলা হলো তখনই আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। চিন, দক্ষিণ কোরিয়ার মত দেশেও লকডাউন শিথিল করার পর নতুন করে সংক্রমণ শুরু হয়। সেই একই ঘটনা ঘটতে পারে ভারতেও।
বেশকিছু বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক কারণে ভারতের মতো বড় দেশের বেশিদিন লক ডাউন চালানো গেলেও, এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যের যাতায়াত শুরু করে দেওয়া সংক্রমন বাড়তে গতি দেবে। তাদের মতে কনটেইনমেন্ট জন গুলিতে এখনো দৈনিক পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন। দরকার র্যাপিড টেস্ট।
এপিডেমিওলজিস্ট তন্ময় মহাপাত্র বলেছেন, জুন মাসে ভারতে করোনা সংক্রমনের সবচেয়ে খারাপ সময় আসতে চলেছে। তাঁর কথায় এই লক ডাউন ছাড়ের প্রভাব দেখা যাবে জুন মাসে। এপ্রিল-মে মাসের থেকেও খারাপ অবস্থা হবে জুনে। এরপর জুলাই মাসে হয়তো সংক্রমণের সর্বোচ্চ স্তর দেখা যেতে পারে ভারতে।

