স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১০ সেপ্টেম্বর: করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসতেই আতঙ্কে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হলেন বছর ৩৮ এর এক যুবক। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকালে নবদ্বীপ থানার চরমাজদিয়া চরব্রহ্মণগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।
বুধবার রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর স্থানীয় পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে তাকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যে ঘরে ছিলেন ওই যুবক, বৃহস্পতিবার ভোরে সেই ঘরের বারান্দাতেই তার ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পান এলাকার লোকজন। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় নবদ্বীপ থানার পুলিশ, স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ নবদ্বীপ থানার পুলিশ ও স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কিন্তু বেশ কয়েকঘন্টা কেটে যাওয়ার পরেও ওই যুবকের ঝুলন্ত মৃতদেহ নামাতে কেউ এগিয়ে আসেননি। অগত্যা উপায় না দেখে শেষমেষ ওই যুবকের পরিবারের লোকেরাই ঝুলন্ত যুবকের দেহটি নীচে নামান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সঠিক সময়ে খবর দেওয়া সত্ত্বেও স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়নি। এমনকি, কৃষ্ণনগর থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের পথ পেরিয়ে আসতে স্বাস্থ্যকর্মীদের শববাহী গাড়ি লোকজনের লেগে যায় প্রায় ছয় ঘণ্টারও বেশি সময়। বৃহস্পতিবার বেলা ২টো বেজে ৪০ মিনিটে কৃষ্ণনগর থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের শববাহী গাড়ি এসে মৃতদেহ নিয়ে যায় নবদ্বীপ শ্মশানে। স্বভাবতই দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান বা কোনও স্বাস্থ্যকর্মীর দেখা না মেলায় তাদের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
যদিও চরমাঝদিয়া চরব্রহ্মণগর পঞ্চায়েতের ১৮৯ নং বুথের পঞ্চায়েত সদস্য জয়দেব দেবনাথ পৌঁছেছিলেন সঠিক সময়ে। তিনি জানিয়েছেন, ‘আত্মঘাতী ওই যুবকের আদি বাড়ি বিহারের বেগুসরাই জেলার ভগবানপুর থানার একটি গ্রামে। ওই গ্রামেই রয়েছেন তিন সন্তানকে নিয়ে তার স্ত্রী। আর বাবাকে নিয়ে ওই যুবক থাকতেন নবদ্বীপের ওই এলাকায়। ওই যুবক এই অঞ্চলে লেপ তোষক তৈরির কাজ করতেন। তিনি বেশ কয়েকবছর ধরেই এই অঞ্চলে বাস করছেন।

জানা গিয়েছে, মাঝে মধ্যেই দেশের বাড়িতে যেতেন ওই যুবক। মাসখানেক আগেও গিয়েছিলেন দেশের বাড়িতে। নবদ্বীপের ফিরেছিলেন ১৫ দিন আগে। এরপর যথারীতি তার করোনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। বুধবার পজিটিভ রিপোর্ট আসে। যদিও স্থানীয় পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে তাকে আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, পজিটিভ রিপোর্ট আসতেই ওই যুবক মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির বারান্দায় যুবককে ঝুলতে দেখেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। তারাই স্থানীয় পুলিশকে খবর পাঠান। সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ আসে নবদ্বীপ থানার পুলিশ। খবর পেয়ে ছুটে আসেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য জয়দেব দেবনাথ। অথচ দেখা মেলেনি স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের। স্বাস্থ্যকর্মীদের আসার জন্য হন্যে হয়ে বসে থাকতে হয়েছে ওই যুবকের বাড়ির লোকজন এবং এলাকার লোকজনকে।

