স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২৩ এপ্রিল:
হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ড থাকলেও ভর্তির অনুমতি মিলল না করোনা পজিটিভ রোগীর। কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের ঘটনা।
শক্তিনগর হাসপাতালের উল্টোদিকে বাড়ি করোনা পজিটিভ রোগীকে ভর্তি নিল না শক্তিনগর হাসপাতাল। পেশায় ওষুধের কারবারি ছিলেন বিপ্লব সাহা। শক্তিনগর হাসপাতালের সামনে ছিল তার ঔষুধের দোকান শ্রী বিনয় মেডিকেল নামে যা পরিচিত। এখানেই বসতেন শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের কিছু বিশিষ্ট চিকিৎসক। কিন্তু বিপ্লববাবু যখন করোনা আক্রান্ত হন তখন তার ভর্তির অনুমতি মিলল না কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালেই।

জানাগেছে, পেশায় মেডিসিন বিক্রেতা বিপ্লব বাবুর কয়েকদিন ধরেই জ্বর হচ্ছিল। জ্বরের মধ্যেও তিনি দ্বিতীয় ভ্যাকসিন নিয়ে এসেছিলেন হাসপাতাল থেকে। এরপর গতকাল সকাল থেকেই তার শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা শুরু হয়। পরিবারের অভিযোগ শক্তিনগর হাসপাতালে যোগাযোগ করলে হাসপাতাল থেকে তাকে বলা হয় করোনা পজিটিভ রোগীকে তারা হাসপাতালে ভর্তি নেবেন না। এরপর তাকে সেখান থেকে পৌর হাসপাতালে যাবার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিপ্লববাবু এরপর সেখানে গেলে দেখতে পান কৃষ্ণনগর পৌর হাসপাতালে তালা দেওয়া। এরপর ওনার জামাই ও তার ভাই কলকাতার অনেক জায়গায় ফোন করেন বিপ্লববাবুকে ভর্তি করানোর জন্য। কিন্তু কোথাও তারা বেড পাননি। শেষে হেল্প লাইনে ফোন করার পর হেলপ্লাইন থেকে বিপ্লব বাবুদের আশ্বস্ত করা হয় যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা রোগীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করবেন। কিন্তু তারা আর যোগাযোগ করেননি। এরপর রাত আনুমানিক দুটোর সময় বিপ্লববাবু প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা যান।

মৃত করোনা আক্রান্ত বিপ্লব বাবুর বন্ধু মহিম গাঙ্গুলি বলেন, করোনায় যখন বিপ্লববাবু আক্রান্ত হলেন তখন তিনি চিকিৎসা পেলেন না, অথচ শক্তিনগর হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। তাহলে একজন ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত পজিটিভ রোগীকে কেন ভর্তি করা যাবে না? তাহলে করোনা যখন নেগেটিভ হবে তখন কি তাদের ভর্তি নেবে শক্তিনগর হাসপাতাল? পজিটিভ হলে শক্তিনগরে করোনার কি কোন চিকিৎসা হবে না? মহিম বাবুর প্রশ্ন শক্তিনগর হাসপাতালের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে। এরপর তিনি ক্ষোভ উগরে দেন প্রশাসনের প্রতি। তিনি অভিযোগ করেন, বিপ্লববাবু মারা গেছেন গত কাল রাত দুটোর সময়, কিন্তু এখনও তার বডি নিয়ে যাওয়ার কোনও ব্যবস্থা করেনি প্রশাসন। কৃষ্ণনগরের মেন রাস্তার ওপর জেলা হাসপাতাল, আউটডোর রয়েছে, রয়েছে জরুরি পরিষেবা বিভাগ। প্রতিনিয়ত রয়েছে রোগীর আনাগোনা, রোগীর পরিবারের লোকজন যাতায়াত করছে। খাতায়-কলমে সরকারি বিজ্ঞাপনে বলা হচ্ছে করোনা বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর অপরদিকে করোনা রোগী একজন মারা গেছে, সে ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় পড়ে আছে কিন্তু তার সৎকার করা হচ্ছে না। এ যেন প্রশাসনিক ঘেরাটোপেই অবহেলিত প্রশাসন।

