আমাদের ভারত, বর্ধমান, ২৯ জানুয়ারি :
আগুনে পুড়ে মৃত্যু হলো এক কোভিড আক্রান্ত রোগীর। মৃতের নাম সন্ধ্যা মন্ডল(৬০)। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের রাধারাণী ব্লকের কোভিড ওয়ার্ডে এদিন ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ আগুন লাগে। সেখানে চারজন করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি ছিলেন। আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালে চাঞ্চল্য ছড়ায়। হাসপাতালের কর্মীরা তড়িঘড়ি করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেখান থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যান। তিনজনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মৃত্যু হয় সন্ধ্যা মন্ডলের। মৃতের বাড়ি গলসির বড় মুড়িয়া গ্রামে। খবর পেয়ে দমকলের একটা ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। মশা তাড়ানোর ধুপ থেকে আগুন লেগেছে বলে অনুমান। রোগীর পরিবারের দাবি, যেহেতু মশারি খাটিয়ে রোগীদের রাখা ছিল তাই সেখানে মশার ধুপ জ্বালানোর কি প্রয়োজন ছিল?
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ওয়ার্ডে যে চারটে বেড ছিল তার মধ্যে একটা বেডে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তাদের প্রাথমিক অনুমান মশা মারার ধুপ জাতীয় কোনও জিনিস থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটতে পারে। পুরো বিষয়টা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ আমরা ওয়ার্ডের বাইরে ঘুমাচ্ছিলাম। এক মহিলা আগুন আগুন বলে চিৎকার করছিল। ছুটে গিয়ে কর্মীদের ডাকি। কর্মীরা তখন ঘুমাচ্ছিল। তখন কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। দমকলের ইঞ্জিন তার প্রায় আধ ঘন্টা পরে আসে। সেই আগুনে পুড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
মৃতের মেয়ে রানু মন্ডল বলেন, কোরোনা ওয়ার্ডে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয় না। আমি বাইরে ছিলাম। হঠাৎ দেখি ভোরে ওই ওয়ার্ডে আগুন লাগে। তখন গিয়ে কর্মীদের ডাকাডাকি করি।
বর্ধমান মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাঃ প্রবীর সেনগুপ্ত বলেন, ওই ওয়ার্ডে চারজন ভর্তি ছিল। তিনজনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওই ঘরটা সিল করে দেওয়া হয়েছে। কিভাবে আগুন লাগলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পাঁচ সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্ধমান থানায় আমরা অভিযোগ দায়ের করছি। সব দিক থেকেই তদন্ত করা শুরু হয়েছে।

