আমাদের ভারত, ৫ এপ্রিল: এই প্রথম দেশে করোনায় দৈনিক সংক্রমনের সংখ্যা ১ লক্ষ ছাড়িয়ে গেল। গত ২৪ ঘন্টায় ১ লক্ষ ৩ হাজার ৫৫৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এককথায় দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যায় প্রথম ঢেউকে ছাপিয়ে গেল দ্বিতীয় ঢেউ। এর আগে কখনো ভারতে একদিনে একসাথে এত মানুষ আক্রান্ত হননি করোনায়। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৭ লক্ষ ৭১ হাজার।
তথ্য বলছে গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর দেশের দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। ঐদিন সংক্রমণের সংখ্যা ছিল ৯৭ হাজার ৮৯৪। এরপর থেকে একটু একটু করে দৈনিক সংক্রমণের হার কমতে শুরু করে। একসময় ১০ হাজারেও নিচে নেমে গিয়েছিল দৈনিক সংক্রমণের হার। কিন্তু কিছুদিন আগেই দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ দেখা দিয়েছে। আর তাতেই সংক্রমনের গ্রাফ এপর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ রেকর্ডকে ভেঙে দিলো।
দেশের দৈনিক সংক্রমনের বেশিরভাগটাই ৯-১০টি রাজ্যের মধ্যে হচ্ছে। ৫-৬টি রাজ্যের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। তবে মহারাষ্ট্রের মত অন্য রাজ্যগুলির পরিস্থিতি এখনো অতটাও খারাপ নয়। গত ২৪ ঘন্টায় মহারাষ্ট্রের নতুন করে ৫৭ হাজার ৭৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দেশের কোনো একটি রাজ্যের সংক্রমনের নিরিখে এটি সর্বোচ্চ এটা এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ। বাণিজ্য নগরী মুম্বাইয়ের অবস্থাও দিন প্রতি দিন খারাপ হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বাইতে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ১৬৩।
মহারাষ্ট্র ছাড়াও কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, ছত্রিশগড়, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ,পাঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাতে করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। দিল্লিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪০৩৩। চলতি বছরে এপর্যন্ত দিল্লিতে একদিনে এটিই সর্বোচ্চ সংক্রমণের সংখ্যা। গতবছর ৪ ডিসেম্বর দিল্লিতে দৈনিক সংক্রমণ ৪ হাজার ছাড়িয়েছিল। একই পরিস্থিতি ছত্রিশগড়েও। সেখানেও ৫২৫০ জন করোনায়আক্রান্ত। কর্ণাটক উত্তরপ্রদেশেও গত কয়েক দিনে দৈনিক সংক্রমণ চার হাজার ছাড়িয়েছে। তামিলনাড়ুতে সাড়ে তিন হাজার। পাঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাটে আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজারের কাছাকাছি।
পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা তেলেঙ্গানার অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমিতের সংখ্যা এক হাজারের নিচে থাকা সত্বেও বিহার, ঝাড়খন্ড, জম্মু-কাশ্মীর, উত্তরাখন্ড, উড়িষ্যাতেও দৈনিক সংক্রমণ ক্রমশই বাড়ছে।
দ্বিতীয় ঢেউতে সংক্রমণের সংখ্যার সাথে বাড়ছে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ৪৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ২২২ জন মহারাষ্ট্রের। উত্তর প্রদেশ ও দিল্লিতেও দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।

