আমাদের ভারত, ১৬ ফেব্রুয়ারি:টানা তিন সপ্তাহ ধরে দেশে করোনা সংক্রমনের হার নিম্নমুখী। এই পরিস্থিতিতে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে নিজেদের সীমা এলাকায় যে যে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ জারি করেছিল রাজ্য সরকারগুলি সেটা এবার শেষ করা দরকার, এই মর্মে বুধবার সব রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।
চিঠিতে রাজ্যের মুখ্যসচিবদের বলা হয়েছে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই অতিরিক্ত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হোক। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বক্তব্য গত ২১ জানুয়ারি থেকেই দেশজুড়ে করোনার গ্রাফ নিম্নমুখী। একটা সময় দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩ লক্ষের উপর। গত সপ্তাহে সেটাই গড়ে ৫০ হাজারে নেমে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজারে সামান্য বেশি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিমান যাত্রীদের জন্য জারি করা বিধি-নিষেধ শিথিল করেছে। এবার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের উচিত গত কয়েক মাসে যে বাড়তি বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল সেটা তুলে নেওয়া।
স্বাস্থ্যমন্ত্রক বলেছে গত কয়েক মাসে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বেশ কিছু রাজ্যে বিমানবন্দর এবং সীমানা গুলিতে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ জারি করেছিল। কিন্তু করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করাটা যেমন জরুরি তেমনি মানুষের চলাফেরা এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপ চলাটাও জরুরি। তাই রাজ্যগুলি বিধি-নিষেধ পুনর্বিবেচনা করুক। তবে আগের মতই টেস্টিং ট্র্যাকিং এবং টিকাকরণের জোর দিতে বলা হয়েছে কেন্দ্রের চিঠিতে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এই নির্দেশ ঘিরে অনেকেরই ধারণা ভারতে মহামারীর শেষের দিকে চলে এসেছে। বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য বলছে গত ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ হাজার ৬১৫ জন। যা গতকালের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। তবে স্বস্তি দিয়ে এক লাফে অনেকটাই কমেছে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা। বর্তমানে দেশে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ৩ লক্ষ ৭০ হাজার ২৪০। এই মুহূর্তে ভারতে করোনা পজিটিভিটি রেট কমে ২.৪৫ শতাংশ। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় শিথিল হচ্ছে বিধি-নিষেধ। দু’বছর পর আজ থেকে রাজ্যের প্রাথমিক স্কুল খুলে গেছে।

