আমাদের ভারত, ২২ ডিসেম্বর: আবার আতঙ্ক সঙ্গে নিয়ে ফিরছে করোনা। চিনে করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট বিএফ.৭ এর প্রভাবে মৃত্যু মিছিল বেড়েছে সে দেশে। ফলে, আগেভাগেই তৎপর হতে চাইছে ভারত সরকারও। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে আবারও মাস্ক পড়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
বৃহস্পতিবার করোনা নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন মোদী। সেই বৈঠকেই মাস্ক পরার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বছরের শেষে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট যেভাবে চোখ রাঙিয়েছে চিনে তার প্রেক্ষিতে ভারতেও আবার মাস্ক সহ কোভিড বিধি বাধ্যতামূলক করা হবে কিনা তা নিয়ে চর্চা চলছিল।
চিন, আমেরিকা, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া সহ বেশ কয়েকটি দেশে আবার করোনা সংক্রমণের গতি ঊর্ধ্বমুখী। তাই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বৃহস্পতিবার আবার দেশবাসীকে মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়েছেন মোদী। একইসঙ্গে করোনার পরীক্ষা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জিনোম সিকোয়েন্সে জোর দেওয়া হয়েছে রাজ্যগুলিকে।
আর হাতে গোনা কদিন পরেই বড়দিন। তারপরেই নতুন বছর উদযাপন। উৎসবের মধ্যে যাতে সংক্রমণ কোনোভাবেই মাত্রা না ছাড়ায় তার জন্য দূরত্ব বিধি মেনে চলা, মাস্ক পরা এবং নিয়মিত স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র।
কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার সংসদে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য জানিয়েছেন, চিনের পরিস্থিতির উপর ক্রমাগত নজর রাখা হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রতি মুহূর্তে দেশের করোনা পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলিতে চিঠি পাঠিয়ে বেশকিছু সতর্কতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় স্তরে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মহামারী এখনো শেষ হয়নি করোনা আমাদের শত্রু সে প্রতিনিয়ত রূপ বদলাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি রাখতে হবে।
গত কয়েক মাস ধরে কোভিড পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছিল। সংক্রমণ প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। মানুষ মাস্ক পরা বন্ধ করেছিল। মৃত্যুর হারও কমেছিল। কিন্তু চিনে করোনার নতুন ভেরিয়েন্টের প্রভাবে যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় দেশে নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ১৮৫ জন। এক দিনে মৃত্যু হয়েছে ১জনের।

