আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ২ সেপ্টেম্বর: প্রতিষেধকের লাইনে বিশৃঙ্খলা। শেষ পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা গড়ায় হাতাহাতিতে। পরে এলাকায় থাকা সিভিক ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষেধক যে পরিমাণ মজুত ছিল লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর থেকে কয়েকগুণ বেশি। ফলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের মুরারই ১ নম্বর ব্লকের রাজগ্রাম প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। বৃহস্পতিবার ওই কেন্দ্রে ৪০০ জনকে প্রতিষেধক দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু এদিন ভোর থেকে সহস্রাধিক মানুষ ভিড় জমান। লাইনে থেকেই শুরু হয় ঠেলাঠেলি। এরপরেই হাতাহাতি। অবস্থা বেগতিক দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফের ঘোষণা করে চারশো জনের বেশি প্রতিষেধক দেওয়া যাবে না। এরপরেই পুলিশ গিয়ে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় বাসিন্দা বসির শেখ, লাইলা বিবিরা বলেন,“কয়েক দিন থেকেই প্রতিষেধকের জন্য ঘুরছি। কেউ কেউ ভোরের দিকে লাইন দিয়েও প্রতিষেধক পাইনি। এদিনও হাতাহাতির ভয়ে আমরা পালিয়ে যাচ্ছি। আর আসব না। এবার যেদিন বাড়িতে বসে প্রতিষেধক পাবে সেদিন নেব। কারণ প্রতিষেধক নিতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। কারণ যেভাবে লাইনে মানুষ দাঁড়াচ্ছেন তাতে সামাজিক দূরত্বই বলুন বা কোভিড বিধি কোনটাই মানা হচ্ছে না। প্রশাসনের উচিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুপন দিয়ে তাদের নির্দিষ্ট দিনে প্রতিষেধক নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে বলা। কিন্তু প্রশাসনও হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে। তাই আর যাব না”।

হাসপাতালের চিকিৎসক অভিষেক বিশ্বাস বলেন, “আমরা এদিন ৪০৮ জনকে প্রতিষেধক দিতে পেরেছি। কারণ আমাদের কাছে তার বেশি প্রতিষেধক মজুত ছিল না। যদিও মানুষের জমায়েত দেখে ব্লক হাসপাতাল থেকে কিছু প্রতিষেধক চেয়ে পাঠিয়ে ছিলাম। কিন্তু সেখানেও প্রতিষেধক পর্যাপ্ত ছিল না। ফলে কিছু মানুষকে ঘুরে যেতে হয়। তবে প্রথম দিকে যারা জমায়েত করেছিলেন ঘোষণার পর তারা ফিরে যান”।

