আমাদের ভারত, ২৮ মার্চ: কোভিড বিধি না মেনেই চলছে সর্তকহীন জামায়েত ও অবাধ নির্বাচনী প্রচার। এইসব নিয়ে রাজ্যবাসীকে বেশ কিছুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। এবার সেই আশঙ্কাকে সত্যি করে সরকারি ভাবেই করোনা সংক্রমনের দ্বিতীয় ঢেউ পশ্চিমবঙ্গে এসেও পৌছালো।
কেন্দ্রের তথ্য বলছে সারাদেশে যে যে রাজ্যগুলিতে করোনা মারাত্মক থাবা পড়েছে তাতে সবার ঊর্ধ্বে রয়েছে মহারাষ্ট্র। মারাঠা রাজ্যের ৩৬ টির মধ্যে ২৫টি জেলা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে সরকার। এই তালিকাতে গুজরাট, হরিয়ানা, তামিলনাড়ু, ছত্তিশগড় এবং মধ্যপ্রদেশের পরেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। তালিকায় মোট ১২ টি রাজ্যের কথা বলা হয়েছে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের দুটি জেলার কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। সেই দুটি জেলা হল কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা।
সারাদেশে যে ৪৬টি জলায় করোনা গ্রাফ বেশি হারে ঊর্ধ্বমুখী তার মধ্যে রয়েছে এই দুটি জেলা। গতবছরেও প্রথম থেকেই এই দুটি জেলায় সর্বোচ্চ সংক্রমণ ছিল। রাজ্যে যত সংক্রমণ ও মৃত্যু তার অর্ধেকের বেশিই এই দুটি জেলাতেই হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়ও ঠিক একই ছবি উঠে আসছে।
এসবের মধ্যেই রাজ্যে ইতিমধ্যে ভোট শুরু হয়েছে। ভোট চলাকালীন রাজ্যে সংক্রমনের পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে ধরে নিয়েই আগামী একদেড় মাসের জন্য সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়ার প্রশ্নেই পরিকাঠামোগত সমস্ত ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।
গত বছরের শেষের দিক পর্যন্ত সারা দেশের করনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকলেও ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে করোনা সংক্রমণের সূচক ঊর্ধ্বমুখী। গড়ে ৬০ হাজারের বেশি সংক্রমণ হচ্ছে দৈনিক। গত ঘন্টায় দেশে ৬২ হাজারেরও বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ১২ রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিবরাজেশ ভূষণ ও নীতি আয়োগের সদস্য বি কে পাল। তাদের বক্তব্য যে ১২ টি রাজ্য উদ্বেগের শীর্ষে রয়েছে তার যদি ব্যপক পরিমাণে সতর্কতা নেয় তবেই গোটা দেশ রক্ষা পাবে। তা আগের বারের মত চিহ্নিতকরণ, টেস্ট, ও আইসোলেশনের ওপর জোর দিয়েছেন তারা। মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। করোনা হাসপাতালগুলিতে ফের প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে ৪৫ বছরের উর্ধ্বে সকলের টিকাকরণ দ্রুত নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে কেন্দ্র।

