আমাদের ভারত, ১৭আগস্ট: সোমবার বামেদের শ্রমজীবী ক্যান্টিনের ৫০০ দিন পূর্তি উদযাপন করা হয় যাদবপুরে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিমান বসু, মহম্মদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তী বিকাশ ভট্টাচার্য সহ অনেকে। অনুষ্ঠান কর্মসূচি ভালোভাবে সম্পন্ন হলেও বিবাদ তৈরি হয় সিপিএমের যুবনেতা শতরূপ ঘোষের সোস্যালমিডিয়া পোস্টকে ঘিরে। পোস্ট করা ছবিতে শতরূপের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে বিজেপি ত্যাগ করা টলি অভিনেতা অনিন্দ্য পূলক বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিনেত্রী রূপা ভট্টাচার্য এবং বর্ষীয়ান অভিনেতা পার্থসারথি বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যা প্রকাশ্যে আসতেই বেজায় চটেছেন আদ্যোপান্ত বাম সমর্থক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্রীলেখা মিত্র সহ অনেকেই।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে একঝাঁক অভিনেতা অভিনেত্রী বিজেপি এবং তৃনমূলে যোগ দিয়ে টলিউডকে কার্যত দুটি শিবিরে বিভক্ত করেছিল। কিন্তু তাতে গা না ভাসিয়ে উচ্চস্বরে নিজেদেরকে বাম সমর্থক হিসাবে পরিচয় দিয়েছিলেন রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রীলেখা মিত্র, উষসী চক্রবর্তী, বাদশা মৈত্র সহ টলিউডের মুষ্টিমেয় কয়েকজন। দলের সমর্থনে রাস্তায় নেমে প্রচারও করেছেন অনেকে। এমনকি নির্বাচনে রাজ্যে শুন্য ফল করার পরও দলের নানান কর্মসূচিতে দেখা মিলেছে তাদের।
কিন্তু এই ঘটনায় তাদের অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে যাকে অবজ্ঞা করা যায় না বলে মনে করছেন অনেকে। শতরূপের সেই পোস্ট ঘিরে এখন তুমুল জলঘোলা শুরু হয়েছে সিপিএমের অন্দরে। চলছে ক্ষোভ প্রকাশ। এমনকি সিপিএমের সঙ্গ ছাড়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাহুল- শ্রীলেখা। তাদের বক্তব্য বিজেপি থেকে আসা এই ধরনের লোকজনদের বাম তাদের দলে ঠাঁই দিলে তারা দল ত্যাগ করবে। ফেসবুক পোস্টে রাহুল লিখেছেন, যে একবারের জন্যও সাম্প্রদায়িক দলের সাথে জড়িয়েছে বিশেষ করে সে যদি হয় সেলিব্রিটি, তাহলে কোনদিনও তাদের সাথে একমঞ্চে থাকতে নারাজ তিনি। দল ভেবে দেখুক দলে এমন লোকের বেশি প্রয়োজন নাকি রাহুলের। তিনি যে দলদাস হয়ে থাকতে রাজি নন সে কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

রাহুলের পোস্টকে সমর্থন জানিয়ে প্রয়াত বাম নেতা শ্যামল চক্রবর্তীর কন্যা ও অভিনেত্রী উষসীও রাহুলের বক্তব্যকে সহমর্মিতার সাথে বিচার করার আর্জি করেছেন।
অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র জানিয়েছে, এই ধরনের লোকেরাই ভোটের প্রচারে বামেদের সম্পর্কে নানা কটূক্তি করেছিল। বিজেপিতে টিকিট না পেয়ে দল ছেড়ে আসে আর পার্টি যদি তাদের দলে স্থান দেয় তাহলে তিনি অত্যন্ত কষ্ট এবং অপমানে সিপিএমের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছেন।

ক্ষোভ থেকে বোঝা যাচ্ছে ছবিতে থাকা পার্থবাবুর বাম দলে যোগ দেওয়া নিয়ে তেমন মাথা ব্যাথা নেই কারও, বাক্যবাণ ছোঁড়া হচ্ছে কেবল অনিন্দ্য এবং রূপার প্রতি। যদিও অনিন্দ্যদের যুক্তি, করোনার সংকটময় পরিস্থিতিতে দল-মত নির্বিশেষে সিপিএমের শ্রমজীবী ক্যান্টিন এবং রেড ভলেন্টিয়াররা তাদের পরিষেবার মাধ্যমে যেভাবে মানুষের পাশে থেকেছে তাকেই সাধুবাদ ও সমর্থন জানাতে তারা যোগ দিয়েছিলেন কর্মসূচিতে। তবে শতরূপের পোস্টের কমেন্ট বক্সে তাদের দলে যোগ দেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। দলের একাংশের এনিয়ে উষ্মাও প্রকাশ পেয়েছে সেই কমেন্ট বক্সে।

