স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৩ সেপ্টেম্বর: “যারা অগ্রিম টাকা দিয়েছেন তাদের এই মুহূর্তে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়”, পোস্টার নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নদিয়ার চাপড়া থানা এলাকার ঘটনা।
আবার চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে। টাকা ফেরৎ পেতে ওই পোস্টারে চাপড়ার বিধায়ক এবং চাপড়া ব্লক সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলা হয়েছে। চাপড়ার বিধায়ক রুকবানু রহমানের দাবি, পোস্টার বিতর্কে তৃণমূলের কেউ জড়িত নয়। তৃণমূলের ভাবমূর্তি জনসমক্ষে নষ্ট করার জন্য এটা বিজেপির একটা চক্রান্ত। তবে এই ঘটনায় চাপড়া বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
রাতের অন্ধকারে কে বা কারা সাদা কাগজের উপর প্রিন্ট করা পোস্টারগুলো সাঁটিয়ে গেছে যাতে লেখা, “যারা advance টাকা দিয়েছেন তাদের এই মুহূর্তে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়। তাই যে সমস্ত চাকরি প্রার্থীরা আগাম টাকা দিয়েছেন তাদের টাকা ১৫ সেপ্টেম্বরে ফেরৎ দেওয়া হবে। যারা অগ্রিম টাকা দিয়েছেন তারা চাপড়ার বিধায়ক রুকবানু রহমান এবং চাপড়া ব্লক সভাপতি শুকদেব ব্রহ্ম এবং তার ভাই জয়দেব ব্রহ্মের সঙ্গে যোগাযোগ করুন”।

পোস্টার বিতর্কে চাপড়ার বিধায়ক রুকবানু রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই পোস্টারের লেখা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। তৃণমূলের ভাবমূর্তি জনসমক্ষে নষ্ট করার জন্য এটা বিজেপির ষড়যন্ত্র। বিধানসভা ভোটের সময় যারা আমাদের বিরোধিতা করেছিল, নির্দল হয়ে যারা বিজেপি এবং সিপিএমের সঙ্গে জোট বেঁধেছিল তাঁরা ভোটে জিততে পারেনি। তাই ওরাই আমাদের বদনাম করার চেষ্টা চালাচ্ছে। মানুষ জানে কারা এই পোস্টার ফেলেছে। তাই এই পোস্টারকে কেউ গুরুত্ব দেবেন না”।
নদিয়া জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাশীষ রায় জানান,”সারা পশ্চিমবঙ্গ ব্যাপী ইডি সিবিআই দিয়ে সমস্ত বাংলায় একটা অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে বিজেপি। এছাড়া ভোট বাক্সে বিজেপির ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ার কারণে বিভিন্ন জায়গায় কালিমা লিপ্ত করার জন্য আমাদের দলের নেতৃত্ব, এমএলএ, এমপির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনছেন। কেউ বোকা নয়, আজকের দিনে যে এই অবস্থায় আমরা টাকা ফেরৎ দেবো বলে ঘোষণা করব বা আমাদের তরফ থেকে কোনো নেতা নেত্রী এই ধরনের কোনো কথা ঘোষণা করবেন। এটা সম্পূর্ণ একটা মিথ্যা পোস্টার যা বিজেপির দ্বারা সৃষ্ট। যদি তদন্ত করা যায় তাহলে আসল অপরাধী ধরা পড়বে। কারণ এটা তৃণমূল দলকে কালিমালিপ্ত করতে এবং মমতা ব্যানার্জির উন্নয়নকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিজেপির ষড়যন্ত্র। এর সঙ্গে আমাদের দলের কেউ জড়িত নয়। আমরা অপরাধীদের শাস্তির দাবি করছি”।
রানাঘাট লোকসভার সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন,”শাস্তির দাবি করছে ভাল। মানুষ জানে তৃণমূলের সবাই কি রকম। দলের নেত্রী খুনি, রেপিস্ট, তোলাবাজদের সমর্থন করছে। অনুব্রতকে সমর্থন করছে বাঁচাবার জন্য। সেই দলের সম্পর্কে বিজেপি বদনাম রটাবে কেন? মানুষ সবই জেনে গেছে তাদের কারবার সম্বন্ধে। যাতে বিক্ষোভ না হয় সেই কারণেই জনতার মারের ভয়ে ওরা নিজেরাই ঘোষণাপত্র দিয়ে জনতাকে আশ্বস্ত করছে। বিজেপি এই কাজ করতে যাবে কোন দুঃখে”?

