“নেহেরু – রাজীব বসেছিলেন কবিগুরুর চেয়ারে, আমি না” পুরোনো ছবি দেখিয়ে অধীরের অভিযোগের জবাব দিলেন শাহ

আমাদের ভারত, ৮ ফেব্রুয়ারি:বিশ্বভারতীতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেয়ারে তিনি বসেননি। সংসদে কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী তোলা অভিযোগ রীতিমতো প্রমান দিয়ে খণ্ডন করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন,” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আসনে বসিনি বরং কংগ্রেস নেতারা অতীতে যা করেছেন তা আমার উপরে চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”

গতমাসে শান্তিনিকেতনে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ওই সফরে তিনি রবীন্দ্রনাথের চেয়ারে বসে ছিলেন বলে লোকসভায় অভিযোগ করেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথের আসনে বসে তাকে অসম্মান করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আজ সেই অভিযোগের জবাব দিয়ে শাহ বলেন, গতকাল অধীর চৌধুরী দাবি করেছেন তিনি নাকি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেয়ারে বসেছেন। শাহ বলেন, “আমার কাছে বিশ্বভারতীর উপাচার্যর চিঠি রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন ওই দিন আমি কবিগুরুর চেয়ারে বসিনি। জানলার কাছে একটা চেয়ার ছিল ওখানে সকলেই বসেন।” তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস নেতারা অতীতে যা করেছেন সেই দোষ তার উপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

অমিত শাহ বলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ওই চেয়ারে বসে ছিলেন। রাজীব গান্ধী কবিগুরুর সোফায় বসে চা পান করেছেন। সেই ছবিও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরে তা টুইট করেছেন।

অধীর চৌধুরীকে চিঠি দিয়েছেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীও। সেখানে তিনি লিখেছেন, ভুল খবর পেয়েছেন। অমিত শাহকে বসার জন্য আলাদা চেয়ার দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি স্বচক্ষে দেখার জন্য তাকে বিশ্বভারতীতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন উপাচার্য।

অন্যদিকে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় দাবি করেছেন বাংলা কে বোঝার চেষ্টা করছেন না বিজেপি অথচ রবীন্দ্রনাথ সাজার চেষ্টায় বড় দাড়ি রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলা ও বাঙালির আবেগ এবারের নির্বাচনের অন্যতম বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে বিজেপি বাংলায় কৃষ্টি ও সংস্কৃতির পরিবর্তন করে দিচ্ছে বলে প্রচার শুরু করেছে তৃণমূল। অন্যদিকে বিজেপিও বাঙালিয়ানার মোড়কেই প্রচার তুঙ্গে তুলছে। বাঙালি আবেগের সবথেকে বড় অংশজুড়ে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ফলে কবিগুরুকে নিয়ে বাঙালির ভাবাবেগ ধাক্কা খাঅ এমন কোনো অভিযোগ কোনোভাবেই তিনি হতে দেবেন না। সে কারণেই তিনি উপাচার্যের চিঠির নিয়ে একেবারে প্রমাণ দিয়ে অধীর চৌধুরীর অভিযোগের জবাব দিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *