আমাদের ভারত, বর্ধমান,১ সেপ্টেম্বর:
তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত প্রধান পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু কী কারণে হঠাৎ তিনি পদত্যাগ করলেন সেই খবর জানা নেই, এমনটাই বলছেন গ্রামের উপপ্রধান। বিজেপির দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর কোন্দলের জেরে প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। বর্ধমানের বৈকুন্ঠপুর ২ পঞ্চায়েতের ঘটনা। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি ব্যক্তিগত কারণেই তিনি পদত্যাগ করেছেন।
বৈকুন্ঠপুর -২ গ্রাম পঞ্চায়েতটি তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। সেখানে মোট ১২ জন পঞ্চায়েতের সদস্য আছেন। জানাগেছে, এদের মধ্যে আট জন সদস্যই পঞ্চায়েত প্রধান শর্মিলা মালিকের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার জন্য তোড়জোড় শুরু করেন। এরমধ্যে গত আগস্ট মাসে পঞ্চায়েত প্রধানকে হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় তৃণমূল নেতা মোজাম্মেল শা’য়ের বিরুদ্ধে। এরপরেই পঞ্চায়েত প্রধান বর্ধমান থানায় অভিযোগ করে জানান, হাটশিমূল গ্রামের গ্রামবাসীরা গ্রামের সমস্যা নিয়ে কথা বলছিলেন। সেই সময় তৃণমূল নেতা মোজ্জাম্মেল শা তার দলবল নিয়ে পঞ্চায়েত অফিসে এসে তাঁর ঘরে ঢুকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। তাঁকে মারধর করে উদ্যত হয়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ওই নেতা যোগসাজশ করে পঞ্চায়েতে অনাস্থা আনার চেষ্টা করেছিল, বলে দলের একাংশের বক্তব্য। কিন্তু পারেনি। সেই সময় থেকেই তারা বিভিন্ন ভাবে তাঁকে হেনস্থা করে যাচ্ছে।
ওই পঞ্চায়েতের অন্য সদস্যদের অভিযোগ ছিল, গত পাঁচ বছর ধরে এলাকার রাস্তার অবস্থা বেহাল, শ্মশান সংস্কার হয়নি। প্রধানকে বারবার বলা হলেও তিনি কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। প্রধানের কাজ হওয়া উচিৎ সাধারণ মানুষ যেটা চাইছে সেই অনুযায়ী কাজ করা। কিন্তু দেখা গেছে গ্রাম প্রধান অন্য কোনও পঞ্চায়েত সদস্যর কথা শুনতেই চান না। নিজের মর্জিমতো কাজকর্ম করেন। এমনকি অন্য সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে থাকেন। তাই তাঁরা অনাস্থা আনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
এদিকে সোমবার হঠাৎ করে প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেন শর্মিলা মালিক। এরপরেই শুরু হয় বিতর্ক। কী কারণে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গোপাল বিশ্বাস অবশ্য বলেন, প্রধানের পদত্যাগের কথা তার জানা নেই। সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে শুনেছেন। তাঁরা প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু কেন তিনি পদত্যাগ করলেন তা নিয়ে আবার ধোঁয়াশা রয়ে গেল।
বর্ধমান সদর জেলা বিজেপির কনভেনার কল্লোল নন্দন বলেন, পঞ্চায়েতটি তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। বেশ কিছুদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়েছে। মূলত কাটমানি নেওয়াকে কেন্দ্র করেই গন্ডগোল। ওই প্রধানকে অন্য গোষ্ঠী হুমকিও দেয়। সেই ভয়ে প্রধান বর্ধমান থানায় অভিযোগ করেন। এখন শুনছি প্রধান পদত্যাগ করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের কাটমানি নিয়ে গন্ডগোল ও তাকে প্রাণনাশের হুমকির ভয়েই তিনি পদত্যাগ করেছেন।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া বলেন, কোনও দলীয় কোন্দলের প্রশ্নই নেই। ওই প্রধান পারিবারিক কারণে পদত্যাগ করেছেন।

