কুমারেশ রায়, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ৭ এপ্রিল:
পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল, দাসপুর, চন্দ্রকোনা বিধানসভার ভোট দ্বিতীয় দফায় হয়েছে। দু-একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া ভোট পর্ব শান্তিতে মিটলেও বিতর্কে জড়ালেন ঘাটালের তৃণমূলের নেতা। একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজটি পাঠিয়েছেন ঘাটাল ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক এবং ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ বিকাশ কর। মেসেজের নির্দেশ, পোস্টাল ব্যালট অঞ্চল ওয়াইজ সংগ্রহ করে ঘাটাল তৃণমূল পার্টি অফিসে জমা দিতে হবে। আর এই মেসেজ ঘিরেই সৃষ্টি হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক আলোড়ন।
গণতান্ত্রিক ভোট প্রক্রিয়াতে কে কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা জানার অধিকার কারো নেই। এইভাবে পোস্টাল ব্যালট বা যে কোনও ব্যালট পেপার সংগ্রহ করে পার্টি অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশ সম্পূর্ণভাবে অগণতান্ত্রিক, অবৈধ এবং আইন বিরুদ্ধ। শাসক দলের নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
পোস্টাল ব্যালট জমা দিতে হবে পোস্ট অফিসে। কিন্তু বিকাশবাবুর নির্দেশ, ওই পোস্টাল ব্যালট জমা দিতে হবে তৃণমূল পার্টি অফিসে। জেলার বিভিন্ন স্থানে ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি ওঠা বিভিন্ন অভিযোগে এই নির্দেশ এক নতুন মাত্রা যোগ করল। একজন ভোটারের ভোট দানের যে গণতান্ত্রিক অধিকার এবং গোপনীয়তা এই নির্দেশের মাধ্যমে তা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করে।
যদিও বিকাশবাবু এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, চক্রান্ত হোক বা নাই হোক, ভোটের পরে এই মেসেজে নতুনভাবে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
এই বিষয় ভারতীয় জনতা পার্টির ঘাটাল বিধানসভার প্রার্থী শীতল কপাট বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস পোস্টাল ব্যালট নিয়ে অনেকদিন থেকেই হুমকি দিচ্ছে এবং চক্রান্ত শুরু করেছে। এই মেসেজ তার প্রমাণ। আমরা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেছি। যদি এই অভিযোগের কোনও তদন্ত না হয় এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তাহলে বিজেপি বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে।

