বালুরঘাটে তৃণমূলের ধর্না মঞ্চে হাজির দণ্ডি কান্ডের বিতর্কিত নেত্রী! তুমুল বিতর্ক দলের অন্দরে, কটাক্ষ বিজেপির

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৬ আগস্ট: দলীয় নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে বালুরঘাটে তৃণমূলের ধর্না মঞ্চে হাজির প্রদীপ্তা চক্রবর্তী। জোর বিতর্ক দলের অন্দরে। রবিবার বালুরঘাট শহরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত তৃণমূলের ধর্না মঞ্চকে ঘিরে রীতিমতো আলোড়ন ছড়িয়ে পড়েছে গোটা শহরজুড়ে।

আদিবাসী মহিলাদের দিয়ে দণ্ডি কাটার ঘটনায় অন্যতম বিতর্কিত মুখ তৃণমূলের ওই প্রাক্তন মহিলা নেত্রী কিভাবে এদিনের মঞ্চে হাজির হলেন তা নিয়েই অবাক হয়েছেন অনেকেই।শুরু হয়েছে দলীয় নেতৃত্বদের মধ্যে জোর গুঞ্জন। অনেকে আবার ওই প্রাক্তন নেত্রীকে দেখেই নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখেছেন। যদিও ওই ঘটনা নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে পিছপা হয়নি বিজেপি। তাদের দাবি, প্রাক্তন মহিলা নেত্রীর বিরুদ্ধে যাবতীয় পদক্ষেপ পুরোটাই আইওয়াশ ছিল তৃণমূলের। তৃণমূল অবশ্য এই কর্মসূচিকে সাধারণ মানুষের কর্মসূচি বলেই দাবি করেছে।

প্রসঙ্গত, বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় তিন আদিবাসী মহিলাকে দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা দণ্ডি কাটাবার অভিযোগ উঠেছিল প্রাক্তন মন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তীর পুত্রবধূ তথা তৃণমূলের মহিলা নেত্রী প্রদীপ্তা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। যে ছবি ভাইরাল হতেই শুধুমাত্র রাজ্য রাজনীতি নয়, গোটা দেশ তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল। আদিবাসী মহিলাদের সাথে কেন এমন নিকৃষ্টতম আচরণ করেছিলেন ওই মহিলা নেত্রী তা নিয়ে সরব হয়েছিলেন আদিবাসীরাও। প্রদীপ্তা চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নামতে দেখা গিয়েছিল আদিবাসীদেরও। যা নিয়ে একাধিকবার ধর্মঘটের ডাকও দেয় আদিবাসী বিভিন্ন সংগঠন। যে সবের চাপে পড়েই দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল প্রদীপ্তা চক্রবর্তীকে। শুধু তাই নয়, ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে দলের মহিলা নেত্রী হিসেবে আদিবাসী মুখকেই সামনে এনেছিল তৃণমূল। এখানেই শেষ নয়, নব জোয়ার কর্মসূচি নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণ দিনাজপুরে এসেই বালুরঘাট পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকেও সরিয়ে দিয়েছিলেন প্রদীপ্তা চক্রবর্তীকে। একইসাথে সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছিলেন, আপাতত দলের সমস্ত কর্মকাণ্ড থেকে তাকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। এরপর বেশ কিছুদিন দলের প্রোগ্রামে তাকে দেখা না গেলেও, সামাজিক বেশকিছু অনুষ্ঠানে দলীয় নেতৃত্বদের সাথে দেখা গিয়েছিল ওই প্রাক্তন মহিলা নেত্রীকে।

এদিন সরাসরি তৃণমূলের ধর্না মঞ্চে বিতর্কিত ওই প্রাক্তন মহিলা নেত্রী প্রদীপ্ত চক্রবর্তীকে দেখে অনেকেই চমকে উঠেছেন। দলীয় অনুশাসন ও নিয়ম-শৃঙ্খলা ভেঙে কিভাবে দলের কর্মসূচিতে অংশ নিলেন ওই প্রাক্তন নেত্রী? যা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন খোদ দলের নেতৃত্বদেরই একাংশ। যদিও এদিন ওই ধর্না মঞ্চে প্রদীপ্তা চক্রবর্তীকে দেখে তৃণমূলের নেতা নেত্রীরা অনেকেই দূরত্ব বজায় রেখেছেন। ঘটনা নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে পিছপা হয়নি বিজেপি। বিজেপির দাবি, তৃণমূল একটি স্বৈরাচারী দল। যেখানে কোনো নিয়ম নীতির বালাই নেই। মহিলাদের প্রতি তৃণমূলের কি মনোভাব এই ঘটনা তা সকলকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। দণ্ডি কান্ডের পর যেসব ঘটনা হয়েছে তা যে পুরোটাই তৃণমূলের আইওয়াশ ছিল এদিন সকলের কাছেই তা জলের মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বলেও দাবি করেছে বিজেপি।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিজেপির সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী বলেন, তারা প্রথম থেকে বলে এসেছেন এই ঘটনা তৃণমূলের আইওয়াশ। মহিলাদের প্রতি তৃণমূলের কি দৃষ্টিভঙ্গি তা এদিন সকলের কাছেই জলের মতো স্পষ্ট হয়েছে।

জেলা তৃণমূল সভাপতি মৃণাল সরকার বলেন, এদিনের এই অনুষ্ঠানে দলের কোনো নেতা নেত্রীকে ডাকা হয়নি। সাধারণ মানুষ থেকে বিজেপির বিধায়ক সকলেই অংশ নিয়েছে এই কর্মসূচিতে। সেখানে সাধারণ মানুষের বেশে কেউ কোথাও দাঁড়িয়ে বা বসে থাকলে তাতে তাদের কিছু বলার থাকে না।

তৃণমূলের রাজ্য নেত্রী অর্পিতা ঘোষ বলেন, এদিনের এই কর্মসূচি সকল জনসাধারণের জন্যই আয়োজিত হয়েছিল। সেখানে যে কেউই অংশ নিতে পারে। প্রদীপ্তা চক্রবর্তী দলের কোনো নেত্রী হিসাবে নয়, সাধারণ মানুষের বেশেই উপস্থিত হয়েছিলেন।

যদিও এনিয়ে প্রদীপ্তা চক্রবর্তীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *