জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৩০ জুলাই: রাতভর একনাগাড়ে বৃষ্টি। জলমগ্ন হয়েছে চাষ করা ধান জমি। জলমগ্ন ধানের বীজতলা। আর তাতেই মাথায় হাত চাষীদের। আমফান, যসের তান্ডবে ক্ষতি পর একনাগাড়ে বৃষ্টিতে চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন গলসী-১ ব্লকের ধান চাষীরা। জল না কমলে নতুন করে চাষ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় চাষীরা। গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছে ব্লক কৃষি দফতর।
প্রসঙ্গত, গত রবি মরশুমে গলসী-১ নং ব্লকে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে বরো ধানের চাষ হয়েছে। সব থেকে বেশী চাষ হয়েছে পারাজ, লোয়া- রামগোপালপুর, লোয়া -কৃষ্ণরামপুর, চাকতেঁতুল, শিড়রাই, উচ্চগ্রাম, পোতনা-পুরষা পঞ্চায়েত। করোনা মহামারীর মাঝে ‘যশ’ ঘুর্নী ঝড়ের তান্ডবে বেশ কিছু ধান ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবুও ফলন ভালো হয়েছিল।
গলসী-১ নং ব্লক কৃষি দফতর সুত্রে জানা গেছে, চলতি মরশুমে ব্লকে ১৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বরো ধান চাষ হয়েছে। ফলন হয়েছে ৭১ হাজার মেট্রিক টন ধান। খারিফ মরশুমের শুরুতে একনাগাড়ে বৃষ্টিতে নতুন করে দুঃশ্চিন্তার কালোমেঘ গ্রাস করেছে শস্যগোলা পুর্ব বর্ধমানের গলসীর চাষীদের। কারন সর্বোচ্চ ধান উৎপাদনে দেশের মধ্য শির্ষস্থানে উঠে আসে গলসী। গত বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টির ফলে আমন ধানের চাষ ভালো হয়েছিল। তবে তার আগে আমফানের দাপটে মাথায় হাত পড়েছিল বরো ধানে। ঝড়বৃষ্টির ফলে মাঠেই নষ্ট হয়েছিল প্রচুর ধান। ঠিক তার একবছর পর আবারও বন্যার ভ্রূকুটিতে আতঙ্কে গলসীর চাষীরা।
গলসী-১ নং ব্লক কৃষি দফতর সুত্রে জানা গেছে, ব্লকে ১৭ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে খারিফ ধান চাষ হয়। যার মধ্যে শিড়রাই, লোয়ারামগোপালপুর, লোয়াকৃষ্ণরামপুর, পারাজ, উচ্চগ্রাম, চাকতেঁতুল, উচ্চগ্রাম, পোতনা-পুরষা পঞ্চায়েত এলাকায় সব থেকে ভালো চাষ হয়। চলতি মরশুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত ভালো হওয়ার দরুন ধান রোপন অধিকাংশ জমিতে হয়ে গিয়েছে। জানা গেছে, প্রায় ৮ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে ইতিমধ্যে ধান রোপন হয়ে গিয়েছে। বাকি জমিতে ধান রোপনের কাজ চলছিল জোরকোদমে। কিন্তু বৃহঃস্পতিবার রাত থেকে একনাগাড়ে বৃষ্টিতে মাথায় হাত পড়ে চাষীদের। সদ্য রোপন করা ধান জমি জলে টইটম্বুর, জলে থৈ থৈ করছে মাঠের পর মাঠ ধান জমি। তার ওপর ধানের বীজতলা জলমগ্ন। আর তাতেই ক্ষতির আশঙ্কা।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা জানান, “এভাবে দুদিন বৃষ্টি হলে রোপন করা ধান পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বীজতলার ধান বীজ নষ্ট হয়ে যাবে। নতুন করে বীজতলা তৈরী করে চাষ করা কোনওভাবে সম্ভব নয়। চরম ক্ষতি হবে।”
জানা গেছে ব্লকের লোয়ারামগোপালপুর, লোয়া কৃষ্ণরামপুর, শিড়রাই এই তিন পঞ্চায়েত এলাকায় চাষে বেশী ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। গলসী-১ নং ব্লক কৃষি আধিকারিক অরিন্দম দানা বলেন, “ব্লকে ৮ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে ধান রোপন হয়েছিল। তার মধ্যে ৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমি জলমগ্ন। গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হয়েছে।”

অন্যদিকে একনাগাড়ে বৃষ্টিতে ফুলে উঠেছে অজয় ও দামোদর নদ। কাঁকসার শিবপুর রোডে সেতু টুমনি নদীর জলে প্লাবিত। যোগাযোগ সম্পুর্ন বিচ্ছিন্ন। দুর্গাপুরের কয়েকটি ওয়ার্ডে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। জল বাড়ছে দুর্গাপুর ব্যারেজে। দুর্গাপুর সেচ দফতরের আধিকারিক গৌতম ব্যানার্জী বলেন, “এদিন বিকাল পর্যন্ত দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ৫৬ হাজার ৬২৫ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। রাতে বৃষ্টিপাত হলে জল আরও ছাড়তে হবে।”

