আমাদের ভারত, ৫ জুলাই: “নূপুর শর্মা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চের বিচারপতিদের দুর্ভাগ্যজনক অনৈতিক উস্কানিমূলক” মন্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানানো হল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে। এই সঙ্গে ন্যায় ও বিচারব্যবস্থা এবং সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।
Citizens for justice kolkata র নামের একটি সংগঠনের তরফে আবেদনে লেখা হয়েছে, আমরা, ভারতের নাগরিক এবং পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা, নূপুর শর্মা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চের দুই বিচারপতি বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জেবি পাদ্রিওয়ালার দুর্ভাগ্যজনক অনৈতিক উস্কানিমূলক মন্তব্যের তীব্র আপত্তি জানাচ্ছি।
১ জুলাই তারিখে প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে ব্যাপকভাবে বিষয়টি প্রচারিত হয়েছে। একটি টিভি চ্যানেলে বিতর্কের সময় নবী মোহাম্মদকে নিয়ে নূপুর শর্মার মন্তব্য দেশজুড়ে কলহ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ। এর জন্য তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে। এগুলোকে যুক্ত করতে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বেঞ্চ একটি আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। প্রচারমাধ্যমের রিপোর্ট অনুসারে আমরা জানতে পেরেছি যে সওয়াল-যুক্তি শুরু হওয়ার আগে বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং জেবি পারদিওয়ালার অবকাশকালীন বেঞ্চ নূপুর শর্মার বিরুদ্ধে প্রবলভাবে সমালোচনা করে।
আবেদনে জানানো হয়েছে, বেঞ্চের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে যে নূপুরের বক্তব্য ’সারা দেশে আগুন জ্বালিয়েছে’ এবং দেশে ‘যা ঘটছে’ (দাঙ্গা, পাথর নিক্ষেপ এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ড সহ) এর জন্য তাঁকে দায়ী করা হয়েছে। আমরা মনে করি যে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আজ নূপুর শর্মাকে বিনা বিচারে ধর্মবিদ্বেশী (‘ব্লাসফেমার’) বলে অভিযুক্ত হিসেবে ঘোষণা করেছে।
যে আদালত একসময় গর্ব করে ঘোষণা করেছিল যে ভিন্নমত গণতন্ত্রের সুরক্ষার অংশ, আজ উদয়পুরে কানহাইয়া লালের নৃশংস শিরশ্ছেদের জন্য নূপুরের বক্তৃতাকে দায়ী করেছে। বলেছে, নূপুর শর্মাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। নূপুর শর্মা তদন্তে সহযোগিতা করছেন বলে জানালে তারা (দুই বিচারপতির বেঞ্চ) ব্যঙ্গ করে।
নবীর উপর নূপুর শর্মার বিতর্কিত মন্তব্যকে বিচারপতি কান্ত ‘বিরক্তিকর’ বলে অভিহিত করেন। আদালত নূপুর শর্মাকে তাঁর আবেদন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করে। পরোক্ষভাবে বলেছে যে তিনি কোনও নিরাপত্তার যোগ্য নন। তাঁর জীবনের সমস্ত হুমকির মুখে তাঁকে শহর থেকে শহরে যেতে হবে। কোনও বিচার ছাড়াই এবং কোনও আদালতে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত না করেই এসব বলা হয়েছে!
যৌথ স্বাক্ষরিত আবেদনে বলা হয়েছে, সমস্ত যথাযথ সম্মানের সাথে আমরা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে নূপুর শর্মা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতিদের মন্তব্য ন্যায়বিচার, আইনশাস্ত্র, সংবিধান এবং আইনের শাসন সম্পর্কে আমাদের আজীবনের জ্ঞানকে উল্টে দিয়েছে। বিচারকরা বলছেন যে নূপুর শর্মার সেই কথিত ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের’ প্রতিশোধ নিতে সমস্ত দাঙ্গা, পাথর নিক্ষেপ হয়েছে, রাষ্ট্রের সম্পত্তি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, এগুলো ন্যায়সঙ্গত। দেশের আইন না মেনে খুনী আসামীর মত যারা আইন হাতে তুলে নেয়, আদালত তাদের সমর্থন করেছে উন্মুক্ত ফোরামে।
আবেদনকারীদের বক্তব্য, সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিরা প্রায় জানিয়ে দিয়েছেন যে নূপুর শর্মা নিরাপত্তার অধিকার হারিয়েছেন। যার অর্থ বিচারকরা ২৯৫এ ধারায় বর্ণিত তাঁর জীবনের অধিকার এবং তাঁর জীবনের নিরাপত্তা কেড়ে নিয়েছেন। সেই সাথে ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের মৌলিক ধারণাগুলিকে বিপন্ন করে তুলেছেন।
আমাদের বিনীত মতামত, আবেদনে অভিযুক্তর দাবির বাইরে মাননীয় বিচারপতিরা কোনও সময় এবং তাঁদের ইচ্ছা ও খেয়ালমত যেতে পারেন না। মাননীয় বিচারপতিদের মন্তব্য নূপুরের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি আদালতের অগ্রাধিকার ছিল না। এমন অন্যায্য ও আপত্তিকর উপায়ে তাঁর জীবনের অধিকার কেড়ে না নিয়ে তাঁকে রক্ষা করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতিদের আদেশ দেওয়া উচিত ছিল।
আমরা বিশ্বাস করি যে প্রত্যেক ব্যক্তির স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু মাননীয় বিচারকরা অন্য কথা বলছেন বলে মনে হচ্ছে।
তাই ভারতের মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন উস্কানিমূলক অনৈতিক মন্তব্যের বিরুদ্ধে আমরা আবেদন জানাতে ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে বাধ্য হচ্ছি। ইসলামপন্থী গুন্ডাদের হত্যা ও দাঙ্গার জঘন্য অপরাধের জন্য একজন মহিলা আইনজীবীকে কোনও বিচার ছাড়াই দায়ী করা হয়েছে। খোলা আদালতে এই ধরনের ভয়ঙ্কর এবং আপত্তিকর মতামত প্রকাশ্যে এসেছে। আমরা দুই বিচারপতির কার্যকলাপ এবং মন্তব্যের তীব্র আপত্তি জানাচ্ছি।

