কর্ণাটকে হিজাব পরায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল কংগ্রেসের সিদ্দারামাইয়া সরকার

আমাদের ভারত, ২৩ ডিসেম্বর: বিধানসভা ভোটে জেতার পরেই হিজাব ইস্যু নিয়ে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছিলেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া। সে রাজ্যের আগের বিজেপি সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরার উপরে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সিদ্দারামাইয়া তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। এই প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, কে কোথায় কী পোশাক পরবেন সেটা তার ব্যক্তিগত পছন্দ।

মহীশূরের একটি কর্মসূচিতে শুক্রবার রাতে সিদ্দারামাইয়া বলেন, আর কোনো বাধা রইল না, এবার হিজাব পরে যে কোনো জায়গায় যাওয়া যেতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব পরার অধিকার সংক্রান্ত বিষয়টি এখনো সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। কিন্তু এর মধ্যেই কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা যে রাজনৈতিক বিতর্ককে উস্কে দিল সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি কর্ণাটকের উদুপিতে একটি কলেজে কয়েকজন হিজাব পরিহিত পড়ুয়াকে ক্লাসে বসতে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। কলেজ উন্নয়ন সমিতির সভাপতি তথা স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক রঘুপতি ভট্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হিজাব পরে আসা ছাত্রীরা ক্লাসে ঢুকতে পারবেন না। বিতর্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হিজাবের পাল্টায় গেরুয়া উত্তরীয় পরে আন্দোলন শুরু করেন একাধিক হিন্দুবাদী সংগঠন।

কয়েকটি জায়গায় হিজাবের পক্ষে ও বিপক্ষে আন্দোলনকারীরা সংঘর্ষে জড়ায়। পুলিশের সাথেও একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। সমস্ত স্কুল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এরপর ২০২২ সালে ২৬ জানুয়ারি কর্ণাটক সরকারের শিক্ষা দপ্তর এই বিষয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে ঘোষণা করে সেই কমিটি নির্দিষ্ট সুপারিশ করার আগে পর্যন্ত ছাত্রীরা কেবলমাত্র ইউনিফর্ম পরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসতে পারবেন। হিজাব বা গেরুয়া উত্তরীয় কিছুই পরার অনুমতি নেই।

তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উদুপির কয়েকজন ছাত্রী কর্ণাটক হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন। তাদের দাবি, ছিল হিজাব পরা তাদের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। কোনভাবে এইটা বাতিল করা যায় না। সে বছর ১০ ফেব্রুয়ারি কর্ণাটক হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ঋতুরাজ অবস্থির নেতৃত্বাধীন ৩ বিচারপতির বেঞ্চ অন্তর্বর্তী রায় বলেন, যতদিন না রায় ঘোষণা হচ্ছে কোনো পড়ুয়ার ধর্মীয় প্রতীক মূলক কোনো পরিধান পরে সরকারি স্কুল কলেজে আসতে পারবে না।

এরপর ২০২২- এর মার্চ মাসে কর্ণাটক হাইকোর্ট ছাত্রীদের আবেদন খারিজ করে জানায়, হিজাব পরা ইসলামে বাধ্যতামূলক ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যে পড়ে না। এরপর আবেদনকারীরা আবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু গত অক্টোবরে বিচারপতি হেমন্ত গুপ্ত এবং বিচারপতি সুধাংশ ধুলিয়ার বেঞ্চ এক খন্ডিত রায় দেওয়ায় মামলাটি শীর্ষ আদালতের উচ্চতর বেঞ্চে গিয়েছে। এই ক্ষেত্রে আদালতে দুই বিচারপতির বেঞ্চ স্থগিতাদেশ না দেওয়ায় কর্ণাটকের বিজেপি সরকারের আমলে জারি করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধ সংক্রান্ত নির্দেশ বহাল ছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ এবার প্রত্যাহার করল কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *