সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৩ ডিসেম্বর: আইনি মারপ্যাচে শেষ পর্যন্ত সংখ্যাধিক্য থেকেও ক্ষমতা থেকে আপাতত দূরেই থাকতে হল কংগ্রেসকে। পুর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব ভার পেলেন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জবা মাছোয়ার। ঝালদা পুরসভায় কার্যত ক্ষমতায় থাকল তৃণমূলই।
পূর্ব নির্ধারিতভাবে আজ পুরুলিয়ার ঝালদা পৌরসভায় ছিল কংগ্রেসের পুর প্রধান নির্বাচন। কিন্তু তার আগেই গত কাল আচমকাই রাজ্য সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে তৃণমূলের জবা মাছোয়ার নামে এক কাউন্সিলরকে পৌর প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আজ তবু কংগ্রেসের নির্ধারিত কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। সেই সভায় কংগ্রেসের পাঁচ জন আর দুই নির্দল কাউন্সিলরের সমর্থনে পৌর প্রধান নির্বাচিত হন নির্দল কাউন্সিলর শীলা চ্যাটার্জি। তবে এখনো এতে সরকারি শিলমোহর পড়েনি। ক্ষুব্ধ কংগ্রেস রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়েছে। তারা এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাচ্ছে।
কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতো বলেন, “আইনিভাবে আমরা এই ক্ষমতায় আসব। আদালত তৃণমূলের জঘন্য রাজনীতির বিচার করবে।”
রাজ্যসরকারের প্রতিনিধি জবা মাছোয়ার আজ তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন। তবে তা একমাসের জন্য। তিনি এই বিষয়ে বিশেষ কিছু বলতে পারেননি। সংবাদ মাধ্যমকে এড়িয়ে যান। তিনি শুধু বলেন, “চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছি।”
তৃণমূলের দাবি সবই হয়েছে আইন মেনেই। প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুরেশ আগরওয়াল বলেন, “আইন সবার জন্যই একই। আইন মেনে জবা মাছোয়ারকে একমাসের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। এখানে আর কোনও কিছুই গ্রাহ্য নয়।”
এদিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী হিসেবে নির্দল কাউন্সিলর শীলা চ্যাটার্জি নির্বাচিত হন। পৌরসভা কার্যালয়ে সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। এর পরই পাঁচ কংগ্রেস কাউন্সিলরদের সঙ্গে শীলা সহ দুই নির্দল কাউন্সিলর ঝালদায় কংগ্রেস কার্যালয়ে যান। সেখানে কংগ্রেসে যোগ দেন শীলা চ্যাটার্জির স্বামী কালীপদ চ্যাটার্জি ও নির্দল কাউন্সিলর সোমনাথ কর্মকার। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো। তিনি বলেন, “আমাদের শক্তি বৃদ্ধি হল। আদালতে শীলার মামলার নিষ্পত্তির পরই তাঁর সিদ্ধান্ত নেবেন।”

