সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩১ জুলাই: বাউরি উন্নয়ন পর্ষদ, আদিবাসী উন্নয়ন পর্ষদের মত লোহার উন্নয়ন পর্ষদের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন বাঁকুড়া জেলার লোহার সম্প্রদায়। এই দাবিকে সামনে রেখে সংগঠনের গঙ্গাজলঘাঁটি ব্লক কমিটির উদ্যোগে দুর্লভপুর মোড়ে লোহার সমাজের এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে সংগঠনের প্রায় আড়াই হাজার মহিলা পুরুষ মিছিল করে তাদের বঞ্চিত করে রাখা চলবে না বলে আওয়াজ তোলেন। স্হানীয় সমাজসেবী গৌতম মিশ্রও মিছিলে পা মেলান।
এবছর গঙ্গাজলঘাঁটি ব্লকের বিভিন্ন স্কুল থেকে লোহার সম্প্রদায়ের ছেলে মেয়েরা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ভাল ফল করেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তালডাংরার বিধায়ক অরূপ চক্রবর্তী, গঙ্গাজলঘাঁটি পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি নিমাই মাজি, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ জীতেন গরাই, সমাজকর্মী মানব মন্ডল, স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মানিক মন্ডল সহ অনেকে।
সংগঠনের সভাপতি প্রদীপ লোহার বলেন, আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষরা সেই আদ্যিকাল থেকে জন মজুর খেটে আসছে। আমরাও হিন্দু ধর্মের মানুষ। কিন্তু ব্রাহ্মণ, কায়স্থ সহ তথাকথিত বর্ণ হিন্দুরা আমাদের অবহেলার চোখেই দেখেন। হয়তো এই কারণে আমরা শিক্ষা সচেতন হতে পারিনি। তপশিলি জাতি হয়েও শংসাপত্র পত্র জোটাতে পারেনি সিংহভাগ মানুষ। তাই শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে সরকারি প্রকল্পের অর্থনৈতিক সুবিধা গুলিও পাচ্ছি না।

সংগঠনের এক যুব কর্মী উত্তম লোহার বলেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য তপশিলি জাতির জন্য প্রচুর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আমাদের চেতনার অভাবে তা গ্রহণ করতে পারছি না।
এ বিষয়ে গৌতম মিশ্র বলেন, সত্যি সত্যিই লোহার সম্প্রদায় নিজের অধিকার থেকে বঞ্চিত। এটা কারো দোষ নয়। দোষ হল ওরা শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে। গৌতম বাবু বিধায়ক অরূপ চক্রবর্তীকে এই পিছিয়ে পড়া লোহার সমাজকে টেনে তোলার জন্য অনুরোধ করেন। অরূপ চক্রবর্তী সব শুনে বলেন, কিছু গ্রামীণ সংস্কার ও কু-প্রথা আষ্ঠে পৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে। সরকার সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রেখে নানা প্রকল্প চালু করেছেন। তিনি বলেন, একজন ব্রাহ্মণ বা কায়স্থর ভোটের যে দাম একজন লোহার সম্প্রদায়ের মানুষের ভোটের মূল্য এক। এদের দাবিগুলি নিয়ে আমি যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। আমি বিধানসভায় বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাব।

