উদ্বেগ দেশের নিরাপত্তা নিয়ে! ৫২ জন রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার ত্রিপুরা থেকে

আমাদের ভারত, ১ আগস্ট: ক্রমেই বাড়ছে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা। আর তাতেই বাড়ছে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। কারণ গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী একাধিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের যোগসূত্রের উল্লেখ রয়েছে। চলতি বছরে ত্রিপুরায় ৫২ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে খবর।

মায়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ হয়ে ভারতে ঢুকছে। জানাগেছে, চলতি বছরে এখনো পর্যন্ত ত্রিপুরা থেকে ৫২ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার হয়েছে। এই বিষয়ে ত্রিপুরা পুলিশের শীর্ষ অধিকারিক জানিয়েছেন, বিষয়টি তারা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে।

পুলিশ জানিয়েছে, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে বেশকিছু মামলা রুজু হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের যারা সাহায্য করছে তাদেরও খোঁজ করা হচ্ছে। উত্তরের রাজ্যগুলির সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ওই রাজ্যগুলি ত্রিপুরা পুলিশকে কাজে সহযোগিতা করছে। কঠোরভাবে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। চলতি বছরে এখনো পর্যন্ত ৫২ জন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তদন্ত জারি থাকবে বলে জানিয়েছেন ত্রিপুরা পুলিশ।

ত্রিপুরায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়ে আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। মানব পাচারকারীরা ত্রিপুরা হয়ে রোহিঙ্গাদের অসমে নিয়ে আসছে। এই বিষয় তার বক্তব্য পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়া যারা ভারতে প্রবেশ করছে, তারা এ দেশে সার্বভৌমত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ উদ্বেগজনক। মানব পাচারকারীরা ত্রিপুরায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসছে। সেখান থেকে অসম ও দেশের অন্যান্য প্রান্তে পাচার করে দিচ্ছে। এই নিয়ে অসম পুলিশ প্রশাসন ত্রিপুরা সরকারের সঙ্গে এক যোগে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন হিমন্ত। তিনি আরো বলেন, “কেউ রোহিঙ্গা হোক বা না হোক, কিংবা হিন্দু মুসলিম যেই হোক না কেন বিনা পাসপোর্ট বা ভিসায় ভারতে অনুপ্রবেশ করলে তা বেআইনি বলেই গণ্য হবে। আমরা কোনো বেআইনি কার্যকলাপ বরদাস্ত করবো না।”

মায়ানমার থেকে কমপক্ষে ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। অভিযোগ, অসম ত্রিপুরা হয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে এই রোহিঙ্গারা। এমনকি দিল্লির শরণার্থী শিবিরেও রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বাড়ছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকেই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। ফলে স্বভাবতই এদের কারণে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা যে রয়েছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *