বারাসত হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে জটিল ও সফল অস্ত্রপচার, সুস্থতার পথে দরিদ্র দর্জি

আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগনা, ২৭ আগস্ট:
উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরের শিবালয় এলাকার বাসিন্দা সমীর চক্রবর্তী। পেশায় সেলাই মিস্ত্রি। সংসারের রয়েছে একমাত্র ছেলে ও বউ। অত্যন্ত গরিব পরিবারের সমীর বাবু সেলাইয়ের কাজ করে সাইকেল নিয়ে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে সেলাই করা কাপড়ের জিনিস বিক্রি করে সংসার চালাতেন। কাজে বেড়িয়ে একদিন সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে বাঁদিকের পায়ের কোমরের নীচের হাড় মারাত্মক ভাবে ভেঙ্গে যায় তার। গুরুতর আঘাত লেগে বারাসাত হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। এমত অবস্থায় বারাসত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সমীরবাবুর পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে তড়িঘড়ি মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসা শুরুতেই তাদের নজরে আসে সমীরবাবুর বাঁদিকের পায়ের হাড়ের অবস্থা খুবই খারাপ। তার উপর রিপোর্টে ধরা পড়ে কিছুদিন আগেই মাইনর হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল ওই রোগীর। এমত অবস্থায় হাসপাতালের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে অস্ত্রোপচার করতে চিকিৎসকরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন।

বারাসাত হাসপাতালের সুপার সুব্রত মন্ডল বলেন, রোগীর হিপ রিপ্লেসমেন্ট না করলে ওই রোগীর স্বাভাবিক জীবনে ফেরা মুশকিল ছিল। একদিকে করোনা পরিস্থিতিতে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে সেখানকার কোনও হাসপাতালে এই রোগীর যেমন চিকিৎসা করা দুষ্কর হয়ে পড়েছিল, তার ওপর এই রোগীর পরিবারের আর্থিক সামর্থ ছিল না বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে লক্ষাধিক টাকা খরচ করার। বারাসত হাসপাতালের চিকিৎসকরা সমীরবাবুকে সুস্থ করতে তৎপর হয়ে ওঠেন এবং সম্পূর্ণ সরকারি ব্যবস্থাপনায় কয়েক লক্ষ টাকার সরঞ্জাম রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সাহায্যে বিনা মূল্যে এনে চলতি মাসের ২০ তারিখ অস্ত্রোপচার করেন। এখন সমীরবাবু সুস্থতার পথে বারাসাত হাসপাতালের পুরুষ বিভাগে চিৎসাধীন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই তাঁকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হবে। তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন বারাসাত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে হাসপাতালের সুপার ডা: সুব্রত মন্ডল জানালেন, সমীরবাবুর অস্ত্রোপচার করতে তাদের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। চারজন ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে সমীর বাবুর অস্ত্রপচার সফল হয়েছে। এখন সমীর বাবুকে জেনারেল বেডে দেওয়া হয়েছে এবং আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হবে।

করোনা পরিস্থিতিতে দরিদ্র অসহায় সমীর বাবুর পরিবারের পক্ষে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে এত টাকা খরচ করে বড় অস্ত্রোপচার সম্ভব ছিল না। বারাসাত হাসপাতালের এই বৃহৎ সহযোগিতায় খুশি সমীর বাবু ও তার পরিবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *