পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজে জটিল এবং বিরল অস্ত্রোপচার দরিদ্র আদিবাসী বৃদ্ধার

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৯ ডিসেম্বর: অতি জটিল এবং বিরল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা নবজন্ম দিলেন দরিদ্র এক আদিবাসী বৃদ্ধাকে।

পুরুলিয়ার মানবাজার মহকুমার মাঝিহীড়া গ্রামের বাসিন্দা ষাট বছরের রানী মাহালীর সংসার চলে বাঁশের কাজ করে। মাস খানেক ধরেই পেটে অসহ্য যন্ত্রনা ভোগ করছিলেন তিনি। হয়েছিল জন্ডিসও। গ্রামের দিকে চিকিৎসা করিয়ে কোনো লাভ না হওয়ায় তার দুই ছেলে তাকে নিয়ে সোজা চলে আসেন পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। এখানকার শল্য চিকিৎসক পবন মণ্ডল বৃদ্ধাকে দেখার পর বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করতে বলেন। দেখা যায় রানী মাহালীর প্যানক্রিয়াসে ক্যান্সার রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে এর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন বলে সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। তাদের পরিভাষায় এই অস্ত্রোপচারকে হুইপলস অপারেশন বলা হয়।

সেই মত বুধবার হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ছ’ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে এই অতি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। রোগিনী এখন ভালো আছেন জানিয়ে ডাক্তার পবন মণ্ডল বলেন, একটি সম্পূর্ণ টিম করে তারা এই অস্ত্রোপচার করেছেন। এতে তিনি ছাড়াও ছিলেন চিকিৎসক সোমনাথ বিশ্বাস, সৃজন রায়, সাগুণ সোরেন, সিদ্ধেশ্বর কিসকু। এছাড়াও ছিলেন এনাসথেসিয়ার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকের একটি পুরো দল। যাতে ছিলেন সুশান্ত হালদার, সোমা সান্যাল, অনামিতা মণ্ডল এবং হর্ষপ্রভ দত্ত। অস্ত্রোপচারের পর চব্বিশ ঘণ্টা অতিবাহিত হবার পর এখন রোগিনী ভালো আছেন বলে জানান তিনি।

এই ধরনের জটিল অস্ত্রোপচার পুরুলিয়ার মত নবগঠিত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অতি বিরল বলে জানান এখানকার এমএসভিপি ডাক্তার সুকোমল বিষয়ী। তিনি বলেন, রানী মাহালি অত্যন্ত দুর্বল ছিলেন। তাকে রক্তও দিতে হয়। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অজ্ঞান করার প্রয়োজন হলেও চিকিৎসকরা তার নিম্নাঙ্গ অসাড় করে দেন। ইঞ্জেকসন দিয়ে স্পাইনাল ও এপিডুয়ার করা হয় তার। এতে ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। আপাতত রোগিনী পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বলে জানান তিনি।

নিজের জেলাতেই এত জটিল অস্ত্রোপচার হয়ে যাওয়ায় তারা বিরাট স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানান বৃদ্ধার বড় ছেলে আনন্দ মাহালী। তিনি বলেন, “মা প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছিল। বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর সাধ্য আমাদের নেই। সদর হাসপাতালেই এই অপারেশন করে দিলেন এখানকার ডাক্তাররা। মা এখন ভালো আছে। ডাক্তারবাবুদের কৃতজ্ঞতা জানাই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *