স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২৭ মে: চাকরি দেওয়ার নাম করে বেকার যুবক-যুবতী ও তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে চাকরি না দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতির বাড়ির সামনে অবস্থানে বসলেন প্রতারিতরা। শনিবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ব্লকের কমলাবাড়ি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কসবা মহাশো এলাকায়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কৃষি দপ্তরের গ্রুপ সি পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রার্থী পিছু ১১ লক্ষ টাকা করে নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি উত্তম ঘোষ ও তার ভাগ্নে মিঠুন ঘোষ এবং ভাই অনিল ঘোষ। কিন্তু এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও চাকরিতো জোটেইনি, উল্টে টাকাও ফেরত দিতে গরিমসি করছে তারা। এর আগেও টাকা চাইতে এলে তাদের বাড়িতে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ছয় মাস ধরে তাদের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে না। টাকা নেওয়ার জন্য ভুয়ো ইন্টারভিউ এবং নকল অ্যাপয়নমেন্ট লেটার দেওয়া হয়েছিল। প্রার্থীদের অবিলম্বে সেই টাকা ফেরতের দাবিতে এই আন্দোলন বলে জানিয়েছেন তারা।
উত্তম ঘোষের ভাগ্নে মিঠুন ঘোষের টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করা একটি ভিডিও রয়েছে বিক্ষোভকারীদের কাছে। যদিও এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উত্তম ঘোষের আত্মীয় মিঠু ঘোষ বলেন, উত্তম ঘোষ এলাকায় অনেকদিন ধরেই সুনামের সঙ্গে বসবাস করেন। তিনি কোনও অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। তার পরিবারকে কালিমালিপ্ত করতেই চক্রান্ত চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, এদিনের এই ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ছুটে আসে স্থানীয় কর্ণজোড়া ফাঁড়ির পুলিশ। তাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা কথা বলে তাদের আন্দোলন তুলে নেয় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পত্র জমা দিতে যান।

অপরদিকে, উত্তম ঘোষ বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যে অভিযোগ। এর সাথে কোনো ভাবেই তিনি যুক্ত নন। প্রমাণ করতে পারলে যা শাস্তি দেবে তা মাথা পেতে নেওয়ারও কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “আমি বাড়িতেই ছিলাম। অসত্যকে আশ্রয় নিয়ে কিভাবে একটি অভিযোগ আনা যায় সে বিষয়টি আমি লক্ষ করছিলাম।”
তবে মিঠুন ঘোষ তার ভাগ্নে বলে স্বীকার করে উত্তম বাবু। তিনি আরও বলেন, “মিঠুনের টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি আমিও শুনেছি। কিন্তু টাকা নেওয়ার সঙ্গে আমার আমার ভাগ্নের কোনও যোগ নেই। এ ব্যাপারে আমার বদনাম করা হচ্ছে। আমি প্রয়োজনে মানহানির মামলা করব।”

