জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২০ জুলাই: মেদিনীপুর শহরের একটি ভুয়ো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। মেদিনীপুর সদরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র রবীন্দ্র নগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বড় মাপের লোগো লাগিয়ে হাতে লেখা বিল দিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালাচ্ছেন একশ্রেণির স্বাস্থ্য ব্যবসায়ী। তারা এই ভুয়ো এইচএমসি এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে মোটা টাকা নিয়ে ভুল রিপোর্ট দিচ্ছে বলে অভিযোগ। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সিএমওএইচ ভুবনচন্দ্র হাঁসদা।
জানা গেছে, রাজা বাগানের সালমা বিবি গত শুক্রবার পেটে ব্যথা নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসা গ্যাস্ট্রো’র চিকিৎসকের কাছে যান। পরে সেন্টারের মালিকের পরামর্শ মত ওই সেন্টারে বসা ডাক্তার সৌগত রায়কে দেখান। তিনি একগুচ্ছ টেস্ট ও ওষুধ লিখে দেন। বাড়ি ফেরার পর তার পেটের ব্যাথা আরও বেড়ে যায়। চিকিৎসকের কথামতো সন্ধ্যায় রিপোর্ট নিতে গেলে একত্রিশশো টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু পেটের ব্যাথা না কমায় সালমা বিবি অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। দুটি রিপোর্টে দেখা যায় আকাশ-পাতাল ফারাক। এরপর দি এইচএমসি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক তাদের ভুল স্বীকার করেন এবং টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন।
রোগীর আত্মীয় পরিজন অভিযোগ তোলেন, এই ডায়গনস্টিক সেন্টারের রেজিস্ট্রেশন ও জিএসটি নাম্বার বলে কিছু নেই। হাতে লিখে বিল দিচ্ছে এবং তাও পুরোপুরি ভুল। সালমা বিবির পরিবারের দাবি, এই ভুয়ো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুক স্বাস্থ্য দপ্তর।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভুবন চন্দ্র হাঁসদা জানিয়েছেন, অভিযোগ হাতে পেলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বেআইনি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।

