রাজেন রায়, কলকাতা, ৬ মার্চ: ২০১৬ সালে তৃণমূল যে বিধানসভা আসনগুলিতে জয়লাভ করেছিল তার মধ্যে ৪০ শতাংশই ছিল মুসলিম অধ্যুষিত। ২০১৯ সালে সেই হার আরও বেড়ে যায়। তৃণমূলের এগিয়ে থাকা বিধানসভা আসনগুলির মধ্যে ৫৬ শতাংশ আসনই দেখা যায় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। ফলে ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার চাহিদায় শাসকদলের একাধিক পদক্ষেপকে ‘তোষণের রাজনীতি’ বলেই অ্যাখা দেয় বিজেপি।
কিন্তু এবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা দেখে এই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন অনেকে। কেননা, ২৯১ আসনের সেই তালিকায় এ বার ৪৭ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা গত বিধানসভা ভোটের তুলনায় ১০ জন কম। প্রত্যাশিত প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কেন এই সিদ্ধান্ত? যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ব্যাখ্যা, গেরুয়া শিবিরকে ‘মেরুকরণের’ ফায়দা তুলতে বাধা দিতেই এই সিদ্ধান্ত।
রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে পাহাড়ের তিনটি আসন ছেড়ে ২৯১ আসনে এ দিন প্রার্থী ঘোষণা করেন তৃণমূল নেত্রী। অন্যান্য ভোটের মতো এ বছরের ভোটেও সবার আগেই প্রার্থী ঘোষণা করে তৃণমূল। ২০১১ সালে যে বছর তৃণমূল ক্ষমতায় আসে, সে বছর নির্বাচনে ৩৮ জন মুসলিম প্রার্থী দেওয়া হয়েছিল। ২০১৬ সালে একধাক্কায় সেটা বেড়ে হয়ে যায় ৫৭। এ বার ১০ কমে তা দাঁড়াল ৪৭-এ। মোট প্রার্থীদের মধ্যে শতকরা হারের নিরিখে যা ১৬ শতাংশ।
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ২৭ শতাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। এমন ১২৫ টি বিধানসভা আসন রয়েছে যেখানে ২০ শতাংশর বেশি সংখ্যালঘু মানুষ বসবাস করেন। রাজ্যের ২৩টি জেলার মধ্যে ১৩টি জেলায় কমপক্ষে ১ জন করে মুসলিম প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল। বাকি ১০ জেলায় তাদের কোনও সংখ্যালঘু প্রার্থী নেই।
মালদহে মোট জনসংখ্যার ৫১.২৭ শতাংশ মুসলিম। জেলার ৩৩ শতাংশ আসনেই সংখ্যালঘু প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল। আবার মুর্শিদাবাদে জনসংখ্যার ৬৬.২৭ শতাংশ মুসলিম। তাই জেলার ৬৮ শতাংশ আসনেই সংখ্যালঘু প্রার্থী দিয়েছে ঘাসফুল শিবির।
পরিসংখ্যানগত দিক থেকে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের আধার যে অনেকটাই মজবুত তা পরিষ্কার। তা সত্ত্বেও কৌশলগত কারণেই তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় এ বার তার প্রতিফলন সেভাবে নেই বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

