আমাদের ভারত, ২৫ জুন: তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়া নিয়ে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন। আর তা নিয়েই এখন তোলপাড় দেশ। এরই মধ্যে দেশে ‘ডেল্টা প্লাস’ স্টেনের জেরে মৃত্যুকে ঘিরে উদ্বেগ বেড়েছে রাজ্যগুলিতে। কোভিডের বিধিনিষেধে ঢিলেমি দিলে আগামী কয়েক সপ্তাহেই রাজ্যে তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়বে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে সদ্য গঠিত হওয়া রাজ্য সরকারের বিশেষজ্ঞ কমিটির চিকিৎসকরা। তৃতীয় ঢেউয়ে শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্করাও সমান ভাবে আক্রান্ত হবে বলেও জানিয়েছে এই বিশেষজ্ঞ কমিটি।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য দপ্তরের বৈঠকে তৃতীয় ঢেউ এবং নতুন স্টেন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চিকিৎসকদের এই কমিটি। তাদের মতে, কোভিডের মারাত্মক মিউটেন্ট স্টেন ‘ডেল্টা প্লাসের’ খোঁজ রাজ্যে এখনও পর্যন্ত না মিললেও মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশ সহ কয়েকটি রাজ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই শুধু মধ্যপ্রদেশে ৭ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। গত এপ্রিলের শেষে ও মে মাসে রাজ্যে আক্রান্তদের নমুনায় জিনোম সিকোয়েন্সে দেখা গেছে। ৯৪টি নমুনার মধ্যে ৮৭ টিতেই মহারাষ্ট্রের স্টেন মিলেছিল। এখন পশ্চিমবঙ্গে নতুন কোনও স্টেন ঢুকেছে কিনা তা দেখতে জিনোম সিকোয়েন্সে করতে নমুনা পাঠানো হচ্ছে কল্যাণীর ‘ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ বায়োমেডিক্যাল জিনোমিক্স’-এ। রিপোর্ট আসতে ১৫ দিন সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে।
মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশে তৃতীয় ঢেউ এলেই তার সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গেও তৃতীয় ঢেউ প্রবেশ করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে চিকিৎসক কমিটি। রাজ্যে জারি করা কড়া বিধিনিষেধের ফলে তুলনামূলক বাংলায় সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার কম। তবে এই বিধিনিষেধে ঢিলেমি দিলেই সংক্রমণ বাড়বে। এমনকি আগষ্টের শেষের দিকেই রাজ্যে তৃতীয় ঢেউয়ের আগমন হবে বলেও দাবি করেছে কমিটি।
বৈঠকে প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ থেকে শিক্ষা নিয়ে তৃতীয় ঢেউয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। করোনার নমুনা পরীক্ষা এবং টিকাকরনের মাত্রা বাড়ানো সহ চিকিৎসা পরিকাঠামো মান উন্নত করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে। স্টেরয়েডের যথাযত ব্যাবহার ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহের দিকেও নজর রাখতে বলেছে কমিটি। এছাড়াও প্রতিটি জেলায় কোভিড আক্রান্তদের জন্য ডায়ালেসিস ইউনিটের ব্যাবস্থা করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কোন আক্রান্তের এমআরআইয়ের প্রয়োজন হলে তাকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে পরীক্ষা করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
করোনা আক্রান্ত শিশু ও করোনা পরবর্তী সময়ে ‘মাল্টি সিস্টেম ইনফ্ল্যামেটরি সিন্ড্রোম ইন চিল্ড্রেন’ এর চিকিৎসার জন্য ওষুধের তালিকা প্রস্তুত সহ তাদের হাসপাতালে রাখার প্রাথমিক পরিকল্পনাও করা হয়ে বলে জানা গেছে।
গত বুধবার, তৃতীয় ঢেউয়ের প্রকোপ থেকে প্রস্তুতি নিতে ১০ জন চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে রাজ্য সরকার। রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তার নেতৃত্বে কমিটি কাজ করবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। বিভিন্ন হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ব্যাপারে নিয়মিত তদারকি ও ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় খামতি পূরণেও নজর দেবে কমিটি বলে জানা গিয়েছে।

