অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ৬ ফেব্রুয়ারি: শুক্রবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় এক বিএলও-র। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল হয় মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ার শ্রীপুরে। অভিযোগ ওঠে, এসআইআর- এর বলি হলেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের তরফে শুক্রবার এর কড়া প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের বক্তব্য, নির্দিষ্ট আইন মেনেই স্বীকৃত নানা পেশার কর্মীদের এসআইআর-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনিচ্ছা সত্বেও জোর করে এই কাজ বিএলও-কে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ভিত্তিহীন। এই কাজে তাঁদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রশ্ন নেই। এটা তাঁদের দায়বদ্ধতা। কিছু পেশায় থাকতে গেলে নির্বাচন-বিষয়ক কাজ তাঁকে করতে হবে। আপত্তি থাকলে সেই পেশায় তাঁরা যাবেন না! এসআইআর-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কারও মৃত্যু হলেই কোনও প্রমাণ ছাড়া অসমর্থিত, কল্পিত কিছু ভাবনা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কমিশনের এক আধিকারিক অভিযোগ করেন, সরকারি কর্মী হিসাবে আমরা প্রকাশ্যে অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি কোনও কাজ নিয়ে মন্তব্য করতে পারি না। এসআইআর-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কারও মৃত্যু হলেই কিছু স্থানীয় রাজনীতিক উদ্দেশ্যমূলক নেতিবাচক প্রচারে নামছেন। এক শ্রেণির সংবাদমাধ্যম কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে নেতিবাচক খবর পরিবেশন করছে। গোটা প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনমানসে একটা নেতিবাচক ছাপ ফুটিয়ে তোলাই যেন তাঁদের লক্ষ্য। এতে ব্যাহত হচ্ছে এসআইআর-এর কাজ।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ জানুয়ারি জাতীয় ভোটার দিবসে কলকাতায় ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী অফিসার দিব্যেন্দু দাস তাঁর ভাষণেই কমিশনের কর্তাব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে এ ব্যাপারে আরও সচেতনতা ও সহযোগিতার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তবু রাজনীতিক এবং সাংবাদিকদের একাংশ এ ব্যাপারে যথেষ্ঠ সতর্ক হচ্ছেন না বলে মনে করছেন অনেকে।

