।অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ৭ ফেব্রুয়ারি: ভিডিও বার্তায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রর একটি ‘হুঁশিয়ারি’ স্তম্ভিত করেছে নির্বাচন কমিশনের কর্তাদের। কমিশনের প্রশ্ন, সংবিধানের রীতি এবং আইন মেনে চলা প্রক্রিয়াকে এভাবে প্রকাশ্যে বানচাল করার কথা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বলতে পারেন? বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে।
ভিডিওতে মহুয়া মৈত্র বলেছেন, “নমস্কার আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ বলছি। একটি ছোট্ট ঘোষণা করতে চাই। আপনারা দেখেছেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ভারতবর্ষের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী যিনি সুপ্রিম কোর্টে নিজে দাঁড়িয়ে বাংলার মানুষের হয়ে এসআইআর মামলাটা লড়ছেন। সেখানে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণও দিয়েছে, এমও (মাইক্রো অবজার্ভার) নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আবার ভাবছে। এটা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ। তাদের কোনো স্ট্যাচুটরি ব্যাকিং নেই। তারা ERO এবং AERO- দের ওপরে বসে কোনভাবেই তাদের কাজ চেকিং করতে পারে না।
আমি এই মাইক্রো অবজার্ভারদের বলতে চাই,আপনাদের বলা হয়েছে ২৮০০ টাকা দেওয়া হবে ১০ দিনে। আপনারা কম্পিউটার ভাড়া করে নিজেরা কাজ করুন। একটা জিনিস আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, ২০২৪- এর নির্বাচনের পর খরচ-বাবদ কমিশনের পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ৯০৮ কোটি টাকা দেওয়ার ছিল। আজ অবধি এক পয়সা দেয়নি।
আমরা রোল প্রিন্টিং যেগুলো করালাম সেগুলোর টাকা নির্বাচন কমিশনের আমাদের দেওয়ার কথা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত দেয়নি। আপনাদের বলছে যে নিজের পয়সা খরচ করে ১০ দিনের জন্য ২৮০০ টাকা দিয়ে আপনারা কম্পিউটার ভাড়া করবেন। আর আগামীকাল সুপ্রিম কোর্ট বলে দেবে যে মাইক্রো অবজার্ভার অবৈধ, তখন আপনাদের এক পয়সা কিন্তু নির্বাচন কমিশন ফেরত দেবে না।
এটা আপনারা মনে রাখুন। সবাই যে দৌড়ে গিয়ে কম্পিউটার ভাড়া করবেন, আপনাদের যেই পর্যবেক্ষণ বা যাই কিছু লিখছেন, সেটা কিন্তু অবৈধ। এবং সেটার জন্য আপনাদের যত উকিল বন্ধু আছে তাদেরকে প্রস্তুত করুন। কারণ আপনারা আইনত দায়ী থাকবেন। আর আপনার কোনো মন্তব্যর জন্য যদি কারও নাম কাটা তো দূরের কথা, কোন বাড়তি হয়রানিও হয়, তবে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন। আপনার নামে কিন্তু সেটার মামলা করা হবে। সেটা আমরা দেখে নেব।”
কমিশনের এক আধিকারিক শনিবার দাবি করেন, সাংসদ “নির্বাচন কমিশন বকেয়া দেয়নি, এমও-দের টাকা ফেরত দেবে না, যাই কিছু লিখছেন সেটা কিন্তু অবৈধ’—এধরণের মন্তব্য করে একদিকে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। অপরদিকে, এমও-দের ওপর চাপ তৈরি করছেন। এ ছাড়াও, “যদি কারও নাম কাটা তো দূরের কথা, কোনো বাড়তি হয়রানিও হয়, ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন”, ”মামলা করা হবে”, “আমরা দেখে নেব”— এসআইআর চলাকালীন হুমকির মতো এরকম নানা মন্তব্য করে সংসদীয় রীতি লঙ্ঘন করছেন।”

