Commission, Murugan case, মুরুগান-কাণ্ডে ক্ষুব্ধ কমিশন, চিঠি এলো রাজ্য পুলিশের ডিজি-র কাছে

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ৩ জানুয়ারি: পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের সফরকালে ঢিলেঢালা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশন। মূলত মুরুগান-কাণ্ডেই কমিশন তোপ দেগেছে। ওই ঘটনায় বিশদ রিপোর্ট (এটিআর) আগামী মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

শনিবার কমিশনের তরফে এ ব্যাপারে চিঠি দেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশককে। এই সঙ্গে যথাযথ পুলিশি ব্যবস্থা করতেও বলেছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের সচিব সুজিত কুমার মিশ্রর লেখা চিঠিতে জানানো হয়েছে, “গত ২৮ ডিসেম্বর কমিশন লিখিতভাবে জানিয়েছিল, ২০০৫ ব্যাচের আইএএসসি মুরুগানকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ কলকাতার রোল অবজার্ভার হিসাবে নিয়োগ করা হচ্ছে। ৩০ তারিখে তিনি অভিযোগ করেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ডহারবার মহকুমার মগরাহাট-১ ও মগরাহাট-২ এবং কুলপি ব্লকে শুনানীকালীন পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে তিনি একগুচ্ছ পরিস্থিতির মুখে পড়েন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসারের পৃথক রিপোর্টেও এই অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

এই সফরের ব্যাপারে আগাম জানানো সত্ত্বেও জেলার পুলিশ সুপার এবং মহকুমা অফিসার রোল অবজার্ভারের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেননি বলে অভিযোগ। ফলে রোল অবজার্ভারকে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়েছে। জমায়েত, শ্লোগান, আধিকারিকের গাড়ির ওপর আক্রমণ প্রভৃতি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। ৩০-৪০ জন অজ্ঞাত পরিচয়, উচ্ছৃঙ্খল, উত্তেজিত অভিযুক্তর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে পুলিশের কাছে বারবার বলতে হয়েছে।

কমিশন গোটা ব্যবস্থায় এগুলোকে নিরাপত্তায় গুরুতর গাফিলতি বলে মনে করছে। এ ব্যাপারে কী, কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, দায়িত্বে অবহেলা নিয়ে কী ব্যবস্থা হয়েছে, তার বিশদ রিপোর্ট (এটিআর) আগামী মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে কমিশনের কাছে পাঠাতে হবে।

কমিশন কড়াভাবে জানিয়েছে, এর পর থেকে কোনও নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ক্ষেত্রসমীক্ষায় গেলে যেন তাঁর যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা হয়। তাঁর যথেষ্ঠ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকরা যেন পর্যাপ্ত পুলিশ নিয়ে অকুস্থলে থাকেন। এসআইআর এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তার ব্যাপারে কড়া ব্যবস্থা রাখতে রীতিমত হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন।

প্রসঙ্গত, স্থানীয় শাসক দলের কর্মী-সমর্থক বলে অভিযুক্ত বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে পড়ে ঘটনার দিন কমিশনের পর্যবেক্ষক সি মুরুগান বলেন, “আমি আইএএস, কাজ করেই ছাড়ব।” বিষয়টি আলোড়ণ তৈরি করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *