সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩১ আগস্ট: জেলাজুড়ে পালিত হল খাদ্য আন্দোলনে শহিদদের স্মৃতি তর্পণ। সিআইটিইউ- এর উদ্যোগে কেরানীবাঁধ নন্দী মিল, রেলওয়ে গুডস শেড, মুটিয়া ভবন, বিভিন্ন বিড়ি কারখানায়, গোবিন্দনগর বাস স্ট্যান্ড প্রভৃতি স্থানে পতাকা উত্তোলন, শহিদ বেদীতে মাল্যদান করে শহিদদের স্মরণ করা হয়। সিটু নেতা কিঙ্কর পোষাক, প্রতীপ মুখার্জি, ভৃগুরাম কর্মকার, উজ্বল সরকার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

১৯৫৯ সালের ৩১ আগস্ট খাদ্য ও কেরোসিনের দাবিতে কৃষক শ্রমিক কর্মচারি সহ সর্বস্তরের শ্রমজীবীরা কলকাতায় দাবি তুলেছিলেন, “সস্তা দরে খাদ্য চাই – খেয়ে পরে বাঁচতে চাই”। কিন্তু দাবির কোনো সুরাহা করা না হলেও ঐ নিরন্ন মানুষদের ওপর রাজ্য সরকার লেলিয়ে দিয়েছিল সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীকে আর তাদের ওপর চালানো হয়েছিল নির্বিচারে লাঠি, গুলি ও কাঁদানে গ্যাস। একদিনেই ৮০ জন মানুষের জীবন চলে যায়। নিখোঁজও হয়েছিলেন অনেক মানুষ যাদের আর কোনো দিন খোঁজ মেলেনি।

তার পরের দিন ১লা সেপ্টেম্বর ১৯৫৯ ছাত্রছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদেও চলেছিল গুলি। কেড়ে নেওয়া হয়েছিল ৮ জন ছাত্রের জীবন। এই দুই ঘটনাকে স্মরণ করে এবং শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৯৬০ সাল থেকে প্রতি বছর সমগ্র রাজ্য জুড়েই পালন করা হয়ে আসছে ৩১ আগস্ট “শহিদ দিবস” এবং ১লা সেপ্টেম্বর “ছাত্র শহিদ দিবস”।

