“পাহাড়কে দখল করতে নয়, ভালবাসতে আসি”, জিটিএ’র শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ১২ জুলাই: দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং হবে মেগাসিটি।জিটিএ’র শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। দার্জিলিংয়ে ২০ একর জমি দান করবেন এক ব্যক্তি। সেই জায়গাতেই এই মেগাসিটি হবে বলে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এ বিষয়ে জেলাশাসকদের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। মঙ্গলবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মঞ্চ দার্জিলিং ম্যাল থেকে এই ঘোষণা করেন তিনি। মিরিক এলাকা ছোট হওয়ায় সেখানে ইকো ট্যুরিজমে জোর দেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “পাহাড়কে দখল করতে নয়, ভালবাসতে আসি”। দার্জিলিংকে আমূল পরিবর্তন করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করার পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের প্রতিটি ঘরে দেড় বছরের মধ্যে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে একাধিক পুনর্বাসন এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে রাজ্য সরকার সহায়তা করবে বলে তিনি জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পাহাড়ে শান্তি রাখুন। উন্নয়নের সুযোগ নিন। পাহাড়ে শান্তি থাকলে উন্নয়ন আসবে।” তিনি পাহাড়বাসীকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, “আমি এখানে ভালবাসতে এসেছি, দখল করতে নয়।” তাঁর বার্তায় পরিষ্কার যে, পাহাড় চলবে পাহাড়বাসীর নিয়ন্ত্রণেই।

কী থাকবে মেগাসিটিতে? মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পংয়ে মেগাসিটি তৈরি হব। এখানে স্কুল-কলেজ থেকে শপিংমল, ট্যুরিজম হাব থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক পার্কিং, হাসপাতাল, আইটি হাব সমস্ত কিছুই তাতে রাখা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে পৃথক আইটি হাব করার কথা বলেছেন তিনি। পাহাড়ের দুই জেলাতেই আইটি হাব দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে পৃথক আইটি হাবের পক্ষে সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নির্দেশ দেন, বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে গোটা দেশের মানুষ এসে বসবাস করতে শুরু করছে। বাইরে থেকে কে কী বলছেন, সমালোচনা করছেন, তারা রাজনীতির কারণে করছেন। পশ্চিমবঙ্গে শান্তি রয়েছে। এখানে আইটি হাব হওয়ার সমস্ত রকম সুবিধা রয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে আইটি হাব প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন পাহাড়ের প্রতিটি ঘরে পৌঁছবে পানীয় জল। তিনি পাহাড়ের জল সমস্যা সমাধানে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, পাহাড়ের ঝর্নার জলগুলিকে রির্জাভারে রেখে তা ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। রির্জাভার তৈরি করার প্রক্রিয়া খুব দ্রুত শুরু করা হবে। দার্জিলিং পৌরসভা, জিটিএ এগিয়ে এলে রাজ্য সরকার সহায়তা করবে। ১০-১২টি ঝোরাকে চিহ্নিত করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী, যেখানে সারা বছর কম বেশি জল থাকে। সেটিকে পরিশ্রুত পানীয় জলে পরিণত করে প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া আগামী দেড় থেকে দু’বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পাহাড়ে পাইপ লাইন বসানোর কাজ কিছুটা কষ্টসাধ্য। তবে তা অসম্ভব কিছু নয়। আগামী দেড় থেকে দু বছরের মধ্যে এই জল মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছবে।

এদিন জিটিএ বোর্ডের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রথমেই শপথ নেন বিজিপিএম-এর সভাপতি অনিত থাপা। এরপরে একে একে অন্যান্যরাও শপথ গ্রহণ করেছেন। দার্জিলিংয়ের ভানুভবনে ভানু ভক্তের জন্মদিন অনুষ্ঠান পালন করা হবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *