কল্যাণ চক্রবর্তী
ঘন কালো রাতির চৌকিদার রাম দারোয়ান, রামুদা।
নিশুতি রাতের অপরাধীদের ছত্রভঙ্গ করার কাজে তাঁর দীপ্ত পদচারণা।
যখন ঘুমিয়ে জনপদ, গভীর নিদ্রায় নগরবাসী;
ঘুমিয়ে মানুষের বোধ-বিবেক-রাষ্ট্রভাবনা, তন্দ্রাচ্ছন্ন তার ধর্ম ও সংস্কৃতি,
তখনই নিশুতি রাত খানখান করে চৌকিদার ডাক দিয়েছে, “শোনো ঐ/রামা হৈ”।
অসংখ্য লড়াই, হাজার আক্রমণকে প্রত্যয়ের সঙ্গে মোকাবিলা করে ভোরের বলার্ককে ডেকে এনেছে চৌকিদার।
ভোরের সনাতনী সুবাতাস। এবার সে বিশ্রাম নেবে।
“কালো রাতি গেলো ঘুচে/আলো তারে দিল মুছে।”
ঘুমভাঙা পুবদিকে তাকিয়ে চৌকিদার ভোরের গাঙ্গে তর্পণ করবে।
তারপর সাত্ত্বিক আহার সেরে পালাগান বাঁধবে।
সে যে চারণ কবি, সে যে সুকুমার হৃদয়বৃত্তিকে ভাসান দিতে জানেনি।
তাই কাব্য আর কথা দিয়ে দেশমাতার চরণে নিবেদন করবে অঞ্জলি। তারপর।
নিদাঘ মধ্যাহ্নে সনাতন চেতনা নিয়ে অজস্র কোলাহলের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়বে সে।
কালোরাতে রামু চৌকিদারের এক আভিজাত্যহীন জীবনপঞ্জি।
নির্যাতিতদের বাঁচাতে কে ছুটে আসে দামাল ছেলে! নবকুমারেরা কোথায় হারালো উপকূলের তটে?
রাত্রি ফর্সা হতেই রবিবারের বাজার গমগমে,
হালাল মাংসের দোকানে ভীষণ ভীড়!
“কোন্ ঝটকা দোকানদারের নাম ‘গোপাল’?”
আপন মনেই বিড়বিড় করে ওঠে রামু দারোয়ান,
শ্মশানের খাটে শুয়ে ….. সুবে বাংলায়….


