কয়লাকাণ্ডে রাজ্যজুড়ে তুঙ্গে অপারেশন, ১৫ জায়গায় হানা ইডির

রাজেন রায়, কলকাতা, ২৬ ফেব্রুয়ারি: রাজ্যে ভোট ঘোষণার দিন সকালেও কয়লা কান্ডে তল্লাশি অভিযানের গতি বৃদ্ধি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শুধু কলকাতাই নয়, শুক্রবার পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল, দুর্গাপুরের পাশাপাশি পুরুলিয়াতেও অভিযান চালায় তদন্তকারীরা। কোথাও অটোতে আবার কোথাও গাড়ি নিয়ে দৌড়তে দেখা গেল ইডি গোয়েন্দাদের। তাদের সঙ্গে ছিলেন আধাসেনা জওয়ানরাও। ১৫টি জায়গার মধ্যে লালা ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের অফিস ও বাড়িতে হানা দেন।

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবারই দিল্লির ইডি দফতরে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার পরেই তাদের অভিযানের তৎপরতা বাড়ে। কলকাতার পাশাপাশি দিল্লি ও ওড়িশা থেকেও এদিন ইডি আধিকারিকরা আসেন। কলকাতার মানিকতলা, ফুলবাগান, চাঁদনি চক, বড়বাজার, কালাকার স্ট্রিট, এমজি রোড, প্রিন্সেপ ঘাট সহ একাধিক জায়গায় ঘুরতে দেখা যায় ইডির গাড়ি। কয়লা পাচার কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত অনুপ মাজি ওরফে লালার এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট সুভাষ আগরওয়ালের অফিসে হানা দেয় তারা।

সূত্রের খবর, পুরুলিয়া, বর্ধমান, আসানসোল, দুর্গাপুর সহ কলকাতার বিভিন্ন লালা ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীই এ দিন ইডির তল্লাশির তালিকায় ছিল। কয়লা পাচারকাণ্ডে ব্যবসায়ী রণধীর বার্নওয়ালের বাঁশদ্রোণীর বাড়িতে হানা দেয় সিবিআইয়ের একটি দল। প্রভাবশালীদের টাকা রাখার অভিযোগ রণধীরের বিরুদ্ধে। এদিন তাঁর ডালহৌসির অফিসেও যায় তারা। টাকা গোনার মেশিন নিয়ে এদিন হাজির হন তদন্তকারীরা।

গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যজুড়ে কয়লাকাণ্ডে নিত্য নতুন মোড়। এই কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দোপাধ্যায় এবং শ্যালিকা মেনকা গম্ভীরকে জেরা করেছে সিবিআই। সিবিআইয়ের সঙ্গে একযোগে তদন্ত চালাচ্ছে ইডিও। এর আগেও এ রাজ্যে একাধিক জায়গায় হানা দিয়েছিল ইডি। এ দিন আরও একবার সে ছবিই দেখা গেল। এদিন সকাল থেকেই বেশ কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে এ দিন অভিযানে নামেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। সল্টলেক থেকে একটি গাড়ি বেরোনোর সময় সংবাদমাধ্যমের ‘নজরদারি’ বুঝতে পেরে নতুন কৌশল নেন তদন্তকারীরা। চার চাকার গাড়ি থেকে নেমে অটোয় উঠে পড়ে ইডি আধিকারিকদের একটি দল। সবমিলিয়ে দিন সারাদিন ইডির ব্যস্ততা ছিল তুঙ্গে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *