জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৬ এপ্রিল: অজয় নদীর বুক চিরে তোলা হচ্ছে বালি। গ্রিনট্রাইবুনালকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে অবাধে চলছে অবৈধভাবে বালি পাচার। নদীর পাড় কেটে চলছে মাটি পাচার। ওভারলোডিং বালির লরিতে বেহাল হচ্ছে জঙ্গল ও গ্রামের রাস্তা। বেপরোয়া লরি চলাচলে ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রশাসনের নিরবতায় ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রামের পর গ্রাম। মঙ্গলবার কাঁকসার জঙ্গলমহলে প্রচারে বেরিয়ে অবৈধ বালি পাচারের বিরুদ্ধে এবাবেই সরব হল দুর্গাপুর পুর্বের বিজেপি প্রার্থী দীপ্তাংশু চৌধুরী।
কাঁকসার দুপাশে অজয় ও দামোদর নদ। আর ওই দুই নদের বুক চিরে অবাধে চলছে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন। গ্রিনট্রাইবুনালের নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে রীতি মতো মেশিন বসিয়ে চলছে বালি উত্তোলন। অজয় নদীর ওপর কৃষ্ণপুর, বাসুদেবপুর, কোটালপুকুর জঙ্গলঘাট, দেউল, পেয়ারাবাগান, সাতকাহানিয়ার বাঁশতলা, শ্মশানঘাট একাধিক ঘাটে অবাধে চলছে বালি উত্তোলন।
একইরকমভাবে দামোদর নদের ওপর সিলামপুর, আইমা ঘাট। নদী গর্ভে মেশিন বসিয়ে জলবালি উত্তোলন করে তারপর জল থেকে বালি আলাদা করা হচ্ছে। তারপর জেসিবি দিয়ে চলছে বালি উত্তোলন। একইরকমভাবে আবার অজয় নদীর পাড় কেটে অবাধে চলছে মাটি পাচার। মেশিন দ্বারা নদীতে বালি উত্তোলনে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে গ্রিনট্রাইবুনালের। ওই নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নদীর পাড়ের ৫০-১০০ মিটারের মধ্যেই চলছে বালি উত্তোলন। ফলে নদীর গতিপথ বদলে পাড় ভেঙ্গে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে জানান গ্রামবাসীরা। পাম্প বসিয়ে বালি তোলার ফলে নদীতে খাদ তৈরী হচ্ছে। জলে তলিয়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনাও ঘটে। বেশ কিছু বৈধঘাটের পাশে অবাধে চলছে অবৈধঘাট।

তারপর গোঁদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো আতঙ্ক বালি বোঝাই বেপরোয়া লরি, ডাম্পারের যাতায়াত। কাঁকসার মলানদীঘির জঙ্গলের রাস্তায় অবাধে ওভারলোডিং বালি বোঝাই লরি ডাম্পারের বেপরওয়া যাতায়াত। বেহাল হচ্ছে রাস্তা। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রশাসনের নিরবতায় ক্ষোভে ফুঁসছে জঙ্গলমহলের একের পর এক গ্রাম।
মঙ্গলবার বিকালে কাঁকসার চুঁয়া, রক্ষিতপুর সহ একাধিক গ্রামে জনসংযোগে যান দুর্গাপুর পুর্বের প্রার্থী দীপ্তাংশু চৌধুরী। প্রার্থীকে কাছে পেয়ে গ্রামবাসীরা বেপরোয়া বালি বোঝাই লরি ডাম্পার যাতায়াত বন্ধের দাবি তোলেন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ শোনার পর প্রতিবাদে সরব হন দীপ্তাংশু চৌধুরী। তিনি বলেন, “তৃণমূলের জামানায় অবৈধ কয়লা পাচার, বালি পাচার, মাটি পাচার, গরু পাচারের রমরমা কারবার ফুলে ফেঁপে উঠেছে। অজয় ও দামোদরের বুক চিরে শুধু কাঁকসা এলাকা থেকে দৈনিক হাজারের বেশী লরি, ডাম্পারে বালি, মাটি পাচার হয়। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পাচার হয়।” তিনি আরও বলেন, জঙ্গলের রাস্তাকে ব্যবহার করে চলে অবৈধ কয়লার চোরাকারবার। অজয় নদী পার হলেই বীরভুম। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গরু পাচারের রমরমা কারবার। গত কয়কবছর ধরে জঙ্গলের এই গ্রাম থেকে গরু চুরি বেড়েছে। ওইসব গরু নদী পেরেয়ে পাচার হয়েছে। শুধু ভাইপো ট্যাক্স দিলে রাস্তায় গ্রিনকরিডোর পাচারকারীদের।”
তিনি বলেন, অবৈধ চোরাকাবারের ফলে এলাকায় মাফিয়ারাজ বেড়েছে। বোমা, গুলি, অস্ত্রের ঝনঝনানি বেড়েছে। তাতেই ত্রস্ত্র গোটা জঙ্গলমহল। এই মাফিয়ারাই আবার শাসকদলের হয়ে পঞ্চায়েত ভোটে রিগিং, সন্ত্রাস ভোট লুট করেছে। গত ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এই মাফিয়াদের গুলিতে খুন হয়েছে আমাদের তরুন কর্মী সন্দীপ ঘোষ। অভিযুক্ত এখনও গ্রেফতার হয়নি। এখনও ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছে। এটা চলবে না। বন্ধ হওয়া দরকার। জঙ্গলমহলের মানুষ শান্তি চায়, রোজগার চায়। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই মাফিয়ারাজ বন্ধ করব। বন্ধ করা হবে অবৈধ বালি পাচার। বন্ধ করা হবে গরু পাচার।”

