আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৭ জুন: বাড়ি দখল করে তৃণমূলের পার্টি অফিস বানানোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল আগরপাড়া উষুমপুর এলাকায়। এই ঘটনা কে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে চলে এলো তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব।
আগরপাড়া উষুমপুর বটতলার বাসিন্দা ডক্টর সমর গুহ গরিব মানুষদের চিকিৎসার জন্য ঘর বানিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর সময় তার সেই ঘরে তারই সহকর্মী বন্ধু শম্ভু ঘোষকে দুঃস্থ ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে পড়ানোর জন্য তিনি দিয়ে যান। সেই সঙ্গে ওই ঘরের নীচ তলায় এক জন ব্যবসায়ী দীর্ঘ দিন ধরে জুতোর ব্যবসা করেন।
বুধবার দুপুরে পানিহাটি পৌরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর হিমাংশু দেবের ঘনিষ্ঠ (ডানহাত) বলে পরিচিত যুব তৃণমূল নেতা দেবাশীষ লোধ দলবল নিয়ে আসে এবং পানিহাটি পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সেই কোচিং সেন্টারের ঘর দখল করতে চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। এমন কি কোচিং সেন্টার এর ভেতর থেকে সবাইকে বার করে দেও়ায় হয় এবং ঘরের উপরে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকা ঝুলিয়ে দিয়ে গেটে তালা দিয়ে ওই ঘরটি দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করে।
সেই সময় তাদের দখলদারিতে বাধা দিতে আসেন বৃদ্ধ ব্যবসায়ী। অভিযোগ সেই বৃদ্ধকেও মারধর করে কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ নেতা। এই ঘটনার খবর পেয়ে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর শ্যামলী দেব রায় দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন এবং ঘোলা থানার পুলিশকে খবর দেন।
ঘোলা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। পুলিশকে সঙ্গে করে নিয়ে কাউন্সিলর শ্যামলী দেব রায় গেটের তালা খুলে তৃণমূলের দলীয় পতাকা খুলে দিয়ে দখলমুক্ত করেন সেই ঘর এবং পুনরায় কোচিং সেন্টারে ফিরিয়ে দেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে । এদিন তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর শ্যামলী দেব রায় জানান, ডাক্তারবাবু কোন রাজনৈতিক দলের ছিলেন না তিনি সকলের চিকিৎসা করতেন। সেখানে তার জায়গা দখল করে তৃণমূলের পতাকা লাগানো কে আমি সমর্থন করি না। সেই সঙ্গে অভিযুক্ত দেবাশীষ লোধ ওই বাড়ির নিচের তলায় ব্যবসা করেন সেই বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে মারধর করেছে। আমি আমার ওয়ার্ডে কোনওরকম অন্যায় কাজকে প্রশ্রয় দেব না।”
ওপর দিকেএই ঘটনা সম্পূর্ণ স্বীকার করে নিয়েছে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিমাংশু দেব। তিনি বলেন, ” ডাক্তারবাবুর বাড়ির নিচে একটা জুতোর দোকান আছে। আর ওপরে ঘর করে কোচিং সেন্টার চলে। সেখানে একটা ফাঁকা ঘর আছে সেটাতে কিছু করার কথা শুনেছিলাম কিন্তু সেটা দখল নেবে বা মারধর করেছে কেউ কাউকে সেটা জানি না।”
এই গন্ডগোলের সম্পর্কে ওই কোচিং সেন্টারে শিক্ষক শম্ভুনাথ ঘোষ বলেন, “এই ঘটনার কোনও কারন নেই। আমি দীর্ঘ দিন ধরে এই কোচিং সেন্টার চালাই। কারুর মদত তো আছে এর পেছনে না হলে এই ঘটনা ঘটানোর সাহস পেত না। তবে এর প্রতিরোধ করাটাও জরুরি ছিলো।”
ঘটনার পর থেকে ঘটনায় জড়িত কাউন্সিলর হিমাংশু দেবের ঘনিষ্ঠ দেবাশীষ লোধ পলাতক, তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে ঘোলা থানার পুলিশ।

