মুখ্যমন্ত্রী আইনের ঊর্ধ্বে নন, নাম জড়ালে তাঁর বাড়িতেও সিবিআই যেতে পারে: সুকান্ত মজুমদার

আমাদের ভারত, ১৬ আগস্ট: গরু পাচার মামলায় ধীরে ধীরে তাবড় তাবড় নাম জড়িয়ে পড়ার অনুমান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। এরপর আর বেশকিছু প্রভাবশালীদের নাম জানতে পেরেছে সিবিআই বলে খবর। প্রশাসনের মদত ছাড়া এই পাচার চলতে পারে না। তাই কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ফলে প্রয়োজনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও সিবিআই যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

গরু পাচার মামলায় বীরভূমে প্রাক্তন ও বর্তমান পুলিশ কর্তাদের ওপরে সন্দেহ গারো হচ্ছে সিবিআইয়ের। বেশ কয়েকজনের নাম ইতিমধ্যে তাদের হাতে পৌঁছেছে বলেও খবর। সুকান্ত মজুমদার এ প্রসঙ্গে বলেন, “গরু, কয়লা, বালি প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া পাচার সম্ভব নয়। প্রশাসন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এর সঙ্গে যুক্ত। কেউ ছাড় পাবে না। সকলকে আইনের আওতায় আনা উচিত। আমিও আইনের ঊর্ধ্বে নই। মুখ্যমন্ত্রীও নন। যদি দেখা যায় তার নাম জড়িয়ে যাচ্ছে তার বাড়িতেও ইডি, সিবিআই যাবে।

গরু পাচার মামলায় সিবিআই চার্জশিটে অনুব্রত যোগ উঠে এসেছে। তার দেহরক্ষী সায়গলের মাধ্যমে এই চক্রে তিনি যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেছে সিবিআই। এই প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, সায়গল পুলিশের সাধারণ সাব-ইন্সপেক্টর। তার পক্ষে এই চক্র চালানো সম্ভব নয়, যদি না পিছনে রাজনৈতিক মদত থাকে। সায়গল যে চক্র চালাত বকলমে তা অনুব্রত চালাতেন। তাকে দায় নিতে হবে।”

দুর্নীতি মামলায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাশে না দাঁড়ালেও অনুব্রতর পাশে দাঁড়িয়েছেন, এই প্রসঙ্গে সুকান্ত বলেন, “এটা আসলে চোর বাঁচাও আন্দোলন চলছে।”

১৫ আগস্টের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নাম না করে দুর্নীতি বিরোধী লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেছিলেন। তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সুকান্ত বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছেন মোদীজি। এই লড়াই চলছে চলবে। বাংলা নয় গোটা দেশে রাজনীতি রোজগারের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা ভাঙতে চাই। দু’চারটে সেতু বা রাস্তা তৈরি করতে আসেননি প্রধানমন্ত্রী। ভারতবর্ষের রাজনীতিকে পরিবর্তন করতে, ভারতবাসীর চিন্তা ধারা পরিবর্তন করতে দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। এতদিনের পারস্পরিক পিঠ চুলকে দেওয়ার প্রথা একটি রাজনৈতিক পরিবার অন্য পরিবারের ক্ষতি করবে না এই প্রথা থেকে ভারতের রাজনীতিকে বের করে আনতে হবে। পারিবারিক রাজনীতি থেকে বার করে আনতে হবে দেশকে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *