আমাদের ভারত, ৩১ আগস্ট: ন্যাশানাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর (এনসিআরবি) রিপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল নারী নিগ্রহ বিরোধী নাগরিক কমিটি।
বুধবার কমিটির রাজ্য সম্পাদক কল্পনা দত্ত এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমরা মনে করি পশ্চিমবঙ্গে মেয়েদের উপর নানাধরনের অত্যাচার ও ধর্ষণ, গণধর্ষণের ঘটনা কমছে তো না-ই বরং প্রতিদিন বেড়ে চলেছে। আসলে ন্যাশানাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর রিপোর্ট থেকে সঠিক চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ এরা রিপোর্ট সংগ্রহ করে পুলিশের কাছে নথিভুক্ত অভিযোগ থেকে।
কিন্তু আমাদের রাজ্যে প্রতিদিন যা ঘটনা ঘটে তার ৫ শতাংশও নথিভুক্ত হয় না। অসচেতনতা, অশিক্ষা, সামাজিক লজ্জা, ভয়, পুলিশি হয়রানির আশঙ্কা ইত্যাদি নানা কারণে মেয়েরা বা তার পরিবারের লোকেরা থানায় যেতে চান না। আবার থানায় গেলেও বহু সময় পুলিশ অভিযোগ নথিভুক্ত করতে অস্বীকার করে, নানাভাবে অভিযোগকারিনীকে হয়রান করে, অপমান করে। এরকম খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রচুর পাওয়া যায়।
বাস্তবে আমরা দেখছি নারী নির্যাতন, পারিবারিক হিংসা, ধর্ষণের ঘটনা ক্রমবর্ধমান। যেভাবে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে, মদ জুয়া সাট্টা, ব্লু ফিল্ম, নোংরা বিজ্ঞাপণের প্রভাব বাড়ছে রাজ্যে তথা সারাদেশে, ছাত্র যুবকদের সামনে কোনো আদর্শ চরিত্র তুলে ধরা হচ্ছে না, নেতা নেত্রীদের চুড়ান্ত দুর্নীতি, স্বজনপোষণ চলছে তাতে নারীদের উপর আক্রমণ বাড়ারই কথা।
প্রসঙ্গত, ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর রেকর্ডকে হাতিয়ার করে অমিত শাহকে নিশানা করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই রেকর্ড হাতে পেয়েই অভিষেক ট্যুইট করেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর হাতে এখন দুটো কাজ। একটা হল ছেলেকে জাতীয়তাবাদ শেখানো। আর অন্যটা হল তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজধানীর পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ করা। দিল্লিতে অপরাধের যে হার দেখা গিয়েছে তা দেখে আমি স্তম্ভিত। বাংলাকে দেখে শেখা উচিত।
কিন্তু কল্পনা দত্তর মতে, “ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর এই তথ্য ভ্রান্ত এবং রাজ্যের সঠিক চিত্র তুলে ধরছে না বলেই মনে করি।”

