আমাদের ভারত, ২০ ডিসেম্বর: করোনা পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসেব বলছে রবিবার সংক্রমণ ছিল শূন্য। সোমবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র এক। দেশেও করোনা সংক্রমণ অনেকটাই নেমে এসেছে। কিন্তু বিশ্বের সার্বিক পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে একেবারে নিশ্চিন্ত হতে পারছে না স্বাস্থ্য মন্ত্রক। তাই স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ ইতিমধ্যে সব রাজ্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে চিঠি পাঠিয়েছেন করোনা নতুন ভেরিয়েন্ট নিয়ে সতর্ক করে।
চিন, আমেরিকা, জাপান, ব্রাজিল, রিপাবলিক কোরিয়ায় কোভিড পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে রাজ্যগুলিতে সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কারোর শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়লে নমুনা জিনোম সিকুয়েন্সের জন্য পাঠাতে হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে দেশে এখনো সপ্তাহে প্রায় ১২০০ -র মতো করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বের একাধিক প্রান্তে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, সেটা এদেশে যাতে আটকানো যায় তা নিশ্চিত করতেই নতুন কোনো ভেরিয়েন্ট ভারতে ঢুকে পড়ছে কিনা তার ওপর নজরদারি চালানো প্রয়োজন। তাই প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে জিনোম সিকুয়েন্সের উপর জোর দিতে বলা হয়েছে। কেউ করোনা পজিটিভ হলে সেই নমুনা প্রতিদিন জিনোম সিকুয়েন্সের জন্য নির্দিষ্ট ল্যাবরেটরিতে পাঠাতে হবে।
কিছুদিন আগেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফেও করোনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছিল, প্যান্ডামিক এখনও চলে যায়নি বিশ্বে এখনো প্রতি সপ্তাহে দশ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। চিনের করোনা পরিস্থিতিতে ফের গোটা বিশ্বের কাছে মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের বিভিন্ন হাসপাতাল গুলিতে করোনা রোগীর সংখ্যা হু হু করে বাড়তে শুরু করে দিয়েছে। বাড়ছে মৃত্যু মিছিল। আগামী দিনে চিনের এই পরিস্থিতি আরো ভয়ংকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
এমন অবস্থায় ভারত কোনো ভাবেই গাছাড়া দিতে চাইছে না। নতুন কোনো ভেরিয়েন্ট যাতে ঢুকে না পরে তার জন্য আরো বেশি করে জিনোম সিকোয়েন্সের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

