রক্তাক্ত আফগানিস্তানের তালিবান জঙ্গিদের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়ালো চিন

আমাদের ভারত, ১৭ আগস্ট:
আফগানিস্তান এখন তালিবান দখলে। শোনা যাচ্ছে প্রচুর টাকা সাথে নিয়ে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। কাবুল থেকে নাগরিকদের সুরক্ষিতভাবে বের করে আনতে কাজ করছে আমেরিকা। গোটা বিশ্ব এই জেহাদি হামলার নিন্দায় মুখর। কিন্তু আফগানিস্তান দখল করা সেই তালিবান জঙ্গিদের উদ্দেশ্যে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে চিন।

সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর আফগানিস্তানের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র তালিবানদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন,”আফগানদের নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। সেই অধিকারকে সম্মান করেছি। আমরা আফগানিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে তলে তলে তালিবানদের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে চিনের। আফগানিস্তান দখলে বেজিং সিংহ ভাগ সাহায্য করেছে। আমেরিকাকে কোণঠাসা করতে পাকিস্তানের সঙ্গে হাতিয়ার ও অর্থের যোগান দিয়েছে বেজিং। আবার আন্তর্জাতিক কূটনীতির কথা মাথায় রেখে তালিবানদের সঙ্গে শান্তি স্থাপনের নামে প্রকাশ্যে আলোচনা চালিয়ে গেছে চিন।

গত ২৮ জুন তালিবানদের ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন চিনের বিদেশ মন্ত্রী। ওই প্রতিনিধি দলে ছিল তালিবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা তথা আফগানিস্তানের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট মোল্লা আবদুল ঘানি বারাদার। চিন নিজের “বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ” প্রকল্পে আফগানিস্তানকে শামিল করার চেষ্টা চালিয়েছে পুরোদমে। আসলে তালিবানদের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করে পূর্ব এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে বেজিং।

সোমবার সম্পূর্ণ কাবুল তালিবানদের হাতে চলে গেছে। মাত্র দেড় মাসের মধ্যে আমূল পরিবর্তন হয়ে গেল। সরকার পাল্টে গেল। বদলে গেল দেশের নাম। তালিবানদের দখলে আসার পর আফগানিস্তানের নতুন সরকারি নাম হতে চলেছে, ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তান। খুব তাড়াতাড়ি নতুন সরকার গঠনের কথা ঘোষণা করতে চলেছে জঙ্গিগোষ্ঠী। কাবুলের প্রেসিডেন্ট ভবন দখল করে বসার পর এমন খবর জানিয়েছে তালিবানদের একাংশ। তবে এখনো পর্যন্ত যা খবর পাওয়া যাচ্ছে ভারতের মতো তালিবানদের এই ক্ষমতা দখলকে ব্রিটেন ও রাশিয়া মান্যতা দিতে রাজি হচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *