আমাদের ভারত, ১২ ফেব্রুয়ারি: উত্তর-পূর্ব ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো জাতীয় সড়ককে মুহূর্তের মধ্যে রানওয়েতে পরিবর্তিত করা হলো। তাও এই রানওয়ে যুদ্ধবিমানের জন্য তৈরি হলো। অবিশ্বাস্য এই ঘটনা ঘটেছে অসমের ডিব্রুগড় জেলার মোড়ান সংলগ্ন এন এইচ ১২৭- এর উপর।
এই নতুন রানওয়েতে সেখানে সফলভাবে ওঠানামা করলো ভারতীয় বায়ুসেনার সুখই ৩০ এম কে আই, রাফাল, তেজসের মতো অত্যাধুনিক ফাইটার জেট। পাশাপাশি ১৩০ এ জে সুপার হারকিউলিসের মতো ভারি বিমানগুলিরও ট্রায়াল রান সফলভাবেই হয়েছে। প্রায় ৪.২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হাইওয়েটিকে ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, এটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানাগেছে।
চিন সীমান্তের খুব কাছেই ভারতের তরফে এই পদক্ষেপ কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই ধরনের পরিকাঠামো নির্মাণ ভারতীয় বায়ুসেনার ইস্টার্ন সেক্টরের শক্তিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিলো বলেই মনে করা হচ্ছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যদি শত্রুর অতর্কিত আক্রমণে মূল বিমান ঘাঁটি বা এয়ার বেস ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে এই হাইওয়েকে বিকল্প রানওয়ে হিসেবে ব্যবহার করবে বায়ু সেনা। সাধারণ সময়ে এটি যেমন যান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হবে তেমনি জরুরি অবস্থায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত সেনা ও ত্রাণ পৌঁছে দিতে এই হাইওয়ে ব্যবহার হবে।
এই রানওয়ে আনস্ক্রিপ্ট গেম চেঞ্জার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই উদ্যোগকে কেবল চিন বিরোধী প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন না সামরিক বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে বাংলাদেশ সীমান্ত অত্যন্ত কাছে, এই ধরনের উচ্চমানের সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে ওপার বাংলাকে ঘুর পথে কড়া বার্তা দেওয়াও সম্ভব হয়েছে। সোজা কথায় এদিক ওদিক করলে ছাড় পাবে না বাংলাদেশও। বিশেষত বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইউনুস প্রশাসনের কাছে ভারতের এই সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

