সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৮ আগস্ট: জটিল রোগে আক্রান্ত এক সন্তান সম্ভবা যুবতীর সফল অস্ত্রোপচার হয়ে শিশু কন্যার জন্ম হল পুরুলিয়ায়। পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও সহকর্মীদের যৌথ আন্তরিক প্রয়াসে এই সাফল্য এল। চিকিৎসকদের মতে এই ধরনের পরিস্থিতিতে সাফল্য জেলায় নজিরবিহীন।

সাত বছর আগে পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে বিরল ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ বছর ধরে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত মহিলার ১৪ বোতল রক্ত দিয়ে জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম হয় কন্যা সন্তানের। এই প্রথম পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত মহিলার সন্তানের জন্ম হল। এই ঘটনায় পুরুলিয়া সদর হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম অসম্ভবকে সম্ভব রূপ দিল। খুশি গৃহবধূ ও তার পরিবার।

পুরুলিয়া শহরের ভাটবাঁধ এলাকার বাসিন্দা প্রেমনাথ মুখার্জির সাথে বিয়ে হয় স্থানীয় গাড়ি খানার বাসিন্দা সন্ধ্যা মুখার্জির। তারপরই তার স্বামী জানতে পারেন স্ত্রী সন্ধ্যা মুখার্জি থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। খরচ হয় কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। সময় যত গড়ায় থ্যালাসেমিয়া আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে দু’বার অস্ত্রোপচার করা হয় তার। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। বিয়ের পর তিনবার সন্তান সম্ভবা হলেও গর্ভপাত করা হয়। ঘটনায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে পরিবারের। চিকিৎসক থেকে পরিবারের সদস্যরা মেয়ের উচ্চ চিকিৎসার জন্য বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। ভবিষ্যতে ওই গৃহবধূ মা হতে পারবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন চিকিৎসকরা। পরে আরও একবার সন্তান সম্ভবা হন তিনি। চার মাস আগে ভর্তি করানো হয় পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে। গতকাল সফল অস্ত্রপচারের পর আজ সকালে ওই গৃহবধূ কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। ১৪ বোতল রক্তও দেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং নার্সদের প্রচেষ্টায় অবশেষে অসম্ভবকে সম্ভব রূপ দেওয়া হল। ইতিহাস গড়ল সদর হাসপাতাল।


