সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২২ এপ্রিল: তীব্র দাবদাহের পর বৃষ্টিতে স্বস্তি মিলল পুরুলিয়ায়। স্বস্তির মধ্যেও দুঃখের খবর। বজ্রপাতে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় বিস্বাদের ছায়া বলরামপুরে।
আবহাওয়া দপ্তরের পর্বাভাস অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেলে কালবৈশাখীর তান্ডব চলে পুরুলিয়ার বলরামপুর বরাবাজার সহ সংলগ্ন এলাকায়। ঝড়ের তাণ্ডবে ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে বড় বড় গাছ। বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ১ শিশুর।
আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিমের জেলাগুলি অর্থাৎ বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমানে বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিমি প্রতি ঘণ্টায় ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। সেই মতোই, বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে হঠাৎ কালো মেঘ ধেয়ে আসে। সাথে শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়া। এরপরেই কোথাও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে। বিদ্যুতের তাঁর ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বলরামপুর স্টেশন এলাকায় ভেঙ্গে পড়ে গাছ। এক নাগাড়ে ঘন্টা খানেক শীলাবৃৃষ্টিতে বহু কাঁচা বাড়ি ধসে যায়। পাশাপাশি পাহাড় লাগোয়া পারডি গ্রামেও কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

এর মধ্যে এক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। বলরামপুর ব্লকের তেঁতলো গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ঢাকিবাদ গ্রামে ঝড় বৃষ্টির সময় ষষ্ঠী হেমব্রম ওরফে রামু হেমব্রম নামে বছর ১২ র শিশুটি বাড়ির মধ্যেই বোনের সাথে খেলা করছিল। সেই সময় বজ্রপাতে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে শিশুটি। পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি তাকে বলরামপুর ব্লক হাসপাতালে নিয়ে গেলে, চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে বাঁশগড় হাঁসপাতালে পৌঁছয় বলরামপুর থানার পুলিশ। আজ মৃত শিশুর দেহের ময়নাতদন্তের জন্য পুরুলিয়া গভর্মেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে, চাষেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই সময় চাষের জমিতে শশা ও টমাটো রয়েছে। সেগুলির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষীরা।

