আমাদের ভারত, বর্ধমান, ২২ মার্চ: গোলাকার বস্তুকে বল ভেবে খেলতে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণে মৃত্যু হল এক শিশুর। বর্ধমান শহরের রসিকপুর এলাকার এই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মৃত শিশুর নাম শেখ আফরোজ (৫)। ঘটনায় শেখ আব্রাহাম নামে আরেক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বর্ধমান থানার পুলিশ। কে বা কারা সেখানে বোমা রেখে গেল তা নিয়ে ধন্দে পড়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বেলার দিকে হঠাৎ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বর্ধমানের রসিকপুর। এরপরেই স্থানীয়রা দেখতে পায় দুটি শিশু যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে। চারিদিকে চাপ চাপ রক্ত। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি শিশু দুটিকে টোটোয় চাপিয়ে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসকরা আফরোজকে মৃত বলে ঘোষণা করে। আব্রাহামের চিকিৎসা চলছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বর্ধমান থানার পুলিশ। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে চায় পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়। খবর দেওয়া হয় বোম স্কোয়াডকে। তারা খতিয়ে দেখেন কী ধরনের বোম সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। এছাড়া সেখানে আরও কোথাও বোমা রাখা আছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মীর সাজ্জাদ আলী বলেন, হঠাৎ পরপর দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আমরা ছুটে যাই ছুটে গিয়ে দেখি দুটি শিশু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে একজনের মাথা উড়ে গেছে, আরেকজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
বিধানসভা নির্বাচনে মুখে বিস্ফোরণ কাণ্ডে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় বর্ধমান শহর জুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, এ দিনের বোমা বিস্ফোরণে ইঙ্গিত দিচ্ছে নতুন করে নির্বাচনের আগে উত্তপ্ত হতে পারে বর্ধমান। অন্যদিকে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কীভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটল সেটা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। বোম স্কোয়াড গিয়ে ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখে।
মৃত আফরোজের কাকা শেখ ফিরোজ বলেন, কিছুক্ষণ আগে বাড়ি ফিরে একটু বিশ্রাম করছিলাম। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে ছুটে গিয়ে দেখি আমার ভাইপো রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ওই এলাকায় সারাক্ষণই এলাকার ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা খেলাধূলা করে। তাই সেখানে কেউ বোমা রেখে যেতে পারে না। আমার মনে হয় কেউ বোমা ছুঁড়ে দিয়ে গেছে। আমরা দোষীদের শাস্তি চাই।
বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সন্দীপ নন্দী বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। পুলিশ ঘটনার দ্রুত তদন্ত করুক। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে ঘটনার কথা জানাবো।
তৃণমূল নেতা প্রসেনজিৎ দাস বলেন, একটা দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

