শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়তে জমি হস্তান্তরে স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি মকুব করলেন মুখ্যমন্ত্রী, খুশি অনুকূল ভক্তরা

আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ২ ফেব্রুয়ারি: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়তে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ মিশন সাধনপীঠের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ডিউটি এবং রেজিস্ট্রি খরচ মকুব করল রাজ্য সরকার। বুধবার বোলপুরে সরকারি পরিষেবা প্রদান মঞ্চ থেকে সরকারের সদিচ্ছার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা সব ধর্মকে সম্মান করি। হরিপুর গ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য সৎসঙ্গ মিশন সাধন পীঠকে ১০ লক্ষ ২০ হাজার টাকা স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রি খরচ মকুব করলাম। ভালো করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ুক। আমি তাদের প্রণাম জানাই।”

প্রসঙ্গত, ঠাকুরের জন্মস্থান বাংলাদেশের হিমাইতপুরের আদলে বীরভূমের কৃষ্ণপুর গ্রামে মন্দির গড়েন বিভাস চন্দ্র অধিকারী। মন্দিরকে ঘিরে এলাকার রাস্তা ঘাটের উন্নতি হয় যথেষ্ট। এরপরেই ঠাকুর ও অনুকূল চন্দ্রের ভাবনাকে শ্রদ্ধা জানাতে বিভাসবাবু বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিভাসবাবু বলেন, “১৯৫২ সালের ১৬ নভেম্বর রাজনগর ব্লকের চন্দ্রপুর অঞ্চলের হরিপুর গ্রামের রাস্তা ধরে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র অধুনা ঝাড়খণ্ড হয়ে দেওঘর যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে হরিপুরের ফাঁকা মাঠের ধারে একটি গাছের নিচে বসে মুড়ি গ্রহণ করেছিলেন। ওইদিন ঠাকুর ফাঁকা জায়গা দেখে ভক্তদের বলেছিলেন এখানে সৎসঙ্গ এবং ঋষি স্যান্ডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সদর দফতর হওয়া উচিত। সেই কথা মাথায় রেখে আমি উদ্যোগ নিয়ে জমি জোগাড় করতে শুরু করি। আমাদের ভক্তরা সেই জমি সৎসঙ্গ মিশনের নামে দিতে প্রস্তুত। কিন্তু স্ট্যাম্প ডিউটি এবং রেজিস্ট্রেশন খরচের জন্য বার বার থমকে যেতে হয়েছে। ঠাকুরের ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে খরচ মকুবের আবেদন করেছিলাম। তিনি আমাদের আবেদনে সাড়া দেওয়ায় ঠাকুরের সমস্ত ভক্ত খুশি”।

বিভাসবাবু আরও বলেন, “ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র যে গাছের নিচে বসে মুড়ি গ্রহণ করেছিলেন সেই জায়গা বর্তমানে খাস। আমরা ওই জায়গায় দাতব্য হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, তপোবন বিদ্যালয় এবং কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র গড়ার জন্য জমি চেয়ে আবেদন করেছি। মুখ্যমন্ত্রী সেই বিষয়েও জমি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি জেলা শাসককে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *