Mamata, SIR, Commission, এসআইআর নিয়ে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রীর, চার পৃষ্ঠার চিঠিতে সতর্কতা কমিশনকে

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ৪ জানুয়ারি:মুরুগান কান্ডে ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশনের চিঠি দিল্লি থেকে রাজ্যে আসার পরেই কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে চার পৃষ্ঠার চিঠিতে তিনি কমিশনকে সতর্ক করে দিলেন। সেই সঙ্গে নিজেদের অসঙ্গতি ও ভুলভ্রান্তি অবিলম্বে শুধরে নিতে আবেদন করেছেন। এক পা এগিয়ে মুখ্যমন্ত্রী চিঠির শেষে লিখেছেন, অন্যথায় “দিস আনপ্ল্যানড,আরবিটরারি অ্যান্ড অ্যাডহক এক্সারসাইজ মাস্ট বি হল্টেড”।

শনিবারের তারিখ দেওয়া চিঠিটি মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন চিফ ইলেকশন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশে। এই চিঠির পর রাজ্য- কমিশনের সংঘাতের মাত্রা অনেকটাই বাড়ল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এর আগে গত ২০ নভেম্বর এবং ২ ডিসেম্বর বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর ব্যাপারে কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলেন, এবারের চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী তার উল্লেখ করেছেন।

এসআইআর-এর রূপরেখাকে অপরিকল্পিত, নিচু মানের এবং চটজলদি পদ্ধতি হিসাবে চিহ্ণিত করে তিনি লিখেছেন, “যথেষ্ঠ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি না নিয়ে এই কাজ করা হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের দেওয়া স্থায়ী বসবাসের বা নাগরিকত্বের শংসাপত্র না মানার জন্য জেলা নির্বাচনী অফিসারদের (ডিএলও) পরোক্ষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসআইআর-এর চলতি পর্যায়ে বিহার এবং অন্য রাজ্যগুলোর এরকম হয়নি বলেও দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে পশ্চিমবঙ্গে চলছে পরিকল্পনাহীন, 
খামখেয়ালি ও সংবিধান-বিরোধী প্রক্রিয়া। ভোটদাতার বয়স, নামের বানান প্রভৃতি ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য না থাকলে সংশ্লিষ্ট শংসাপত্র চাওয়া হচ্ছে। সে সব অন্য রাজ্য বা অন্য জেলা দেওয়া হলে যাঁরা সেই শংসাপত্র দিয়েছিলেন, তাঁদের ‘ভেরিফিকেশন’ চাওয়া হচ্ছে। আন্তঃ-জেলা এবং আন্তঃ-রাজ্য শংসাপত্র দাখিলে তৈরি হচ্ছে জটিলতা। এভাবে ইচ্ছে করে সমীক্ষায় দেরি করানো হচ্ছে।

চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, যথাযথ প্রস্তুতি,  একরকম নিয়ম ও প্রশিক্ষণ ছাড়াই এসআইআর চালানো হচ্ছে। যার ফলে গোটা প্রক্রিয়াটি হয়ে উঠেছে ত্রুটিপূর্ণ ও অবিশ্বাসযোগ্য। কমিশনের নির্দেশ বারবার বদলাচ্ছে, কখনও হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেজে ‘অনানুষ্ঠানিক’ নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে— যার কোনও লিখিত বিজ্ঞপ্তি বা  আইনি ভিত্তি নেই।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই অনিশ্চয়তা ও স্বেচ্ছাচারিতার ফলেই প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে ভয়ঙ্কর। তাঁর অভিযোগ, তথ্যপ্রযুক্তির
অপব্যবহার করে ব্যাকএন্ড থেকে ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলা হচ্ছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল 
রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের অনুমোদনই নেওয়া হয়নি।

কমিশনের আধিকারিকরা প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় আগ্রহী নন। তাঁরা অবশ্য দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন, এসআইআর-এর প্রতিটি কাজই হচ্ছে আইন মেনে। রাজনৈতিক অভিযোগ উঠলেও বিএলও-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রথা ও বিধির যথাযোগ্য মান্যতা দিতে হবে। অবজার্ভার এবং মাইক্রো অবজার্ভাররাও এ ব্যাপারে পূর্ণ সচেতন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *